অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শরীরচর্চ্চা ও স্বাস্থ্যসমখাদ্যাভাস নিশ্চিতে করণীয় বিষয়ে এডভোকেসী অনুষ্ঠিত

- Advertisement -

নওগাঁয় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভাস নিশ্চিতে করণীয় বিষয়ে এডভোকেসী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি এফেয়ার্স এর সহায়তায় প্রজন্ম মানবিক অধিকার কেন্দ্র এর প্রতিনিধিদল নওগাঁর জেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা ও তাদের প্রতিনিধিদের সাথে এডভোকেসী অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়বেটিস, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চা, কায়িক পরিশ্রম এবং নগরে তাজা, শাক-সবজির যোগান নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্কুলে শরীরচর্চা, কায়িক পরিশ্রম নিশ্চিতে উদ্যোগের অনুরোধ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়বেটিস, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চা, কায়িক পরিশ্রম এবং নগরে তাজা, শাক-সবজির যোগান নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চা, কায়িক পরিশ্রম এবং নগরে তাজা, শাক-সবজির যোগান নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত স্থুলতা,ওজন এবং অপুষ্টি এ সবই অসংক্রামক রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস, COPD, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসংক্রামক রোগ (Non Communicable Diseases-NCD) বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৭%-এর কারণ অসংক্রামক রোগজনিত রোগ । এসডিজি-র লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজিনত মৃত্যু ৩০% কমিয়ে আনতে হবে।

দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা; অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস; তাজা শাক-সবজি-ফল-মূল কম খাওয়া; শরীরচর্চা, ব্যায়াম বা পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব; অতিরিক্ত স্থুলতা; মাদক সেবন এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার; পরিবেশ দূষণ অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। চার ধরনের অসংক্রামক রোগ ৮০% মৃত্যুর অন্যতম কারণ, যা চার ধরনের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত, তার মাঝে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস অন্যতম ।

Bangladesh NCD Risk Factor Survey ২০১৮ অনুসারে ২০.৩% জনগোষ্ঠী অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৮৯.৬ শতাংশ প্রতিদিন ৫ ধরনের ফল ও সবজি গ্রহণ করে না। প্রতিদিন ফল গ্রহণ করে ০.৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এবং প্রয়োজনীয় সবজি গ্রহণ করে ২.৩ % জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ বিশে^র অন্যতম সবজি এবং ফলমুল উৎপাদনকারী দেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে বাংলাদশে এখন বিশে^ চর্তুথ অবস্থান। আর এ বাস্তবতায় বাংলাদেশে মানুষের মাঝে ফল ও সবজি কম গ্রহণের প্রবণতা একটি বিস্ময়ের বিষয়।

নাগরিকদের সুস্থ্য রাখতে এবং অসংক্রামক রোগ কমিয়ে আনতে সুপারিশ সমুহ

১. নগরে শাক-সবজির যোগান বাড়াতে নগর কৃষি গাইডলাইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা, যা স্বল্প মূল্যে নগরবাসীদের প্রয়োজনীয় তাজা সবজির যোগান নিশ্চিত করবে।
২. বিপণন এবং বিতরণের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র/ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের সহযোগিতা প্রদান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদান।
৩. পরিবহন, মজুত, বিপণনকারীদের স্থানীয় সরকারের লাইসেন্স ফি হ্রাস করা।
৪. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৫ মিনিট শরীরচর্চ্চা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ।
৫. মাশাল আর্ট, সাঁতার, সাইকেলিং এবং দেশী খেলাধূলার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৬. স্থানীয় সরকারের বাজেট খেলার জন্য বাজেট বরাদ্ধ করা।
৭. প্রতিটি জেলা উপজেলা ইউনিয়নে খাস জায়গা খেলার জন্য সংরক্ষন এবং বরাদ্ধ করা।
৮. মাশাল আর্ট শেখানোর জন্য বিনামূল্যে জায়গা বরাদ্ধ করা।
৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা অষ্টম শ্রেনী পাশে সাঁতার কাটা এবং সাইকেল চালানোর দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক করা;
১০. উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা চাকরির ক্ষেত্রে খেলাধূলা, কায়িক পরিশ্রম, সামাজিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ততাকে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা।
১১. নগরে শাক-সবজির যোগান বাড়াতে নগর কৃষি গাইডলাইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা, যা স্বল্প মূল্যে নগরবাসীদের প্রয়োজনীয় তাজা সবজির যোগান নিশ্চিত করবে।
১২. বিপণন এবং বিতরণের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র/ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের সহযোগিতা প্রদান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদান।
১৩. পরিবহন, মজুত, বিপণনকারীদের স্থানীয় সরকারের লাইসেন্স ফি হ্রাস করা।
১৪. কায়িক পরিশ্রমের পরিবেশ সৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার কর্তৃক পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা।
১৫. মাশাল আর্ট, সাঁতার, সাইকেলিং এবং দেশী খেলাধূলার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
১৬. স্থানীয় সরকারের বাজেট খেলার জন্য বাজেট বরাদ্ধ করা।
১৭. প্রতিটি জেলা উপজেলা ইউনিয়নে খাস জায়গা খেলার জন্য সংরক্ষন এবং বরাদ্ধ করা।
১৮. মাশাল আর্ট শেখানোর জন্য বিনামূল্যে জায়গা বরাদ্ধ করা।
১৯. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কৃত ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ