অ্যাপলের স্থান দখলে নিয়েছে শাওমি

আন্তর্জাতিক স্মার্টফোনের বাজারে বরাবরই শীর্ষে থাকে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এবার অ্যাপলকে টেক্কা দিয়েছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি। বর্তমানে সারাবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমির অ্যাপলের চেয়ে স্মার্টফোনের শিপমেন্ট বেড়েছে ৩ শতাংশ।

২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৭ শতাংশ স্মার্টফোনের শিপমেন্ট দিয়েছে শাওমি, যেখানে স্যামসাং দিয়েছে ১৯ শতাংশ আর অ্যাপল দিয়েছে ১৪ শতাংশ। ক্যানালিস গবেষণা সংস্থা বলছে, শাওমি দেশের বাইরে বেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছে গেছে। বছর ব্যবধানে লাতিন আমেরিকায় স্মার্টফোনের শিপমেন্ট ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। পশ্চিম ইউরোপে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। আফ্রিকায় বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর শাওমির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি সারাবিশ্বে ৮৩ শতাংশ বেড়েছে শাওমির স্মার্টফোন শিপমেন্ট। যেখানে স্যামসাংয়ের বেড়েছে ১৫ শতাংশ, অ্যাপলের বেড়েছে ১ শতাংশ। শাওমি বর্তমানে রোবট ক্লিনার থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক টি পট, সবকিছুই বানাচ্ছে।

চলতি বছরই এমআই ইলেভেন আল্ট্রা স্মার্টফোনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যামেরা সেন্সর লাগানো হয়েছে। তা ছাড়া অ্যাপল আর স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনের চেয়ে শাওমির স্মার্টফোন তুলনামূলক কমে বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে বাজার ধরতে সবচেয়ে এগিয়ে শাওমি। গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, স্যামসাং আর অ্যাপলের চেয়ে তুলনামূলক ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হয় শাওমির ফোন। শাওমি সুলভমূল্যে নতুন নতুন ফোন বাজারে ছাড়ছে। আরো কঠিন হচ্ছে প্রতিযোগিতা।

শুধু স্মার্টফোনেই সীমাবদ্ধ নয় শাওমি। চলতি বছরই ঘোষণা দিয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করবে শাওমি। আগামী ১ দশকে এই প্রযুক্তিতে ব্যয় করবে ১ হাজার কোটি ডলার। শাওমি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে এবং ২০১৮ সালের ৯ জুলাই হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। শাওমি একটি ইন্টারনেট কোম্পানি, যা আইওটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে স্মার্টফোন ও স্মার্ট হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত।

কোম্পানিটি সম্প্রতি বিশ্বের সেরা সব উদ্ভাবনী পণ্য এনেছে, যা ‘অনেস্ট প্রাইস’ বা সাশ্রয়ী মূল্যে জীবনকে আরও সহজ করে তোলে। বর্তমানে শাওমি বিশ্বের বৃহত্তম একটি স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ও বিশ্বের বৃহত্তম কনজ্যুমার আইটি প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছে। এই প্লাটফর্মে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ছাড়াই ২৯৮ মিলিয়নের বেশি ডিভাইস সংযুক্ত আছে। বর্তমানে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল শাওমির পণ্যগুলো ব্যবহার করছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian