অ্যাপে অবৈধ সুদের কারবার: টাকা যাচ্ছে চীনে, চলছে অনুসন্ধান

ক্ষুদ্র ঋণের নামে বাংলাদেশে অবৈধ সুদের কারবার করছে চীনভিত্তিক অন্তত দশটি অ্যাপ।

বাংলাদেশে অবৈধ সুদের কারবার খুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে, এই টাকা অন্য বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মুনাফা দেখিয়ে চীনসহ একাধিক দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। দুই চীনা নাগরিক এবং তাদের এ দেশিয় দশ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিজিটাল মহাজনি কারবার চালাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও ফসলের বীজের ব্যবসার কথা বলে রাজধানীর বারিধারা, বনানী, ধানমন্ডি ও মিরপুরে কার্যালয় ভাড়া নিয়েছিল কয়েক চীনা নাগরিক। এরমধ্যে দু’জনসহ তাদের এ দেশিয় পাঁচ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ধরা পড়েছে আরও পাঁচ বাংলাদেশি।

জিজ্ঞাসাবাদে বারোজন জানিয়েছে, অ্যাপভিত্তিক সুদের কারবার থেকে আয়ের টাকা অন্য একটি বৈধ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হিসেবে দেখিয়ে চীনসহ একাধিক দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম) গোয়েন্দা বিভাগের, উপ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বাঙালীর ওপর একটা স্টিমরোলার চালানোর মতো এবং আমাদের বাংলাদেশে যে বিদ্যমান আইন, সম্পূর্ণরূপে তার বিপরীত। এরমধ্যে মনিটরি কোন ট্রান্সফার হয়েছে কিনা, অথবা এরমধ্যে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু আছে কিনা এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে’।

অ্যাপগুলো পর্যালোচনা করে গোয়েন্দারা জানান, একেকটি অ্যাপ বাংলাদেশ থেকে ডাউনলোড হয়েছে এক লাখ থেকে দশ লাখ বার। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনের সব নম্বর ও ছবির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় অ্যাপ কোম্পানিগুলো। কেউ সময় মতো অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ওই ফোন নম্বর ও ছবিতে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে ঋণগ্রহীতাকে অপদস্তও করা হয়।

মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মোবাইলের অনেকগুলো অ্যাপ্লিকেশন অ্যাপসের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। তারা এই অ্যাপস গুলোতে প্রবেশাধিকার চায়। তাই ঋণ নিতে অনেকে বাধ্য হয়েই অ্যাপস ব্যবহারে তাদের নিয়ন্ত্রণে সম্মত জানান। ফলে চায়নাতে বসে চক্রটি কিন্তু ক্ষতিসাধন করতে পারে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ সুদের কারবার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ