আফগানিস্তানে দুই প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বীর শপথ অনুষ্ঠান: কাবুলে বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানের দুই শীর্ষ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী গত বছরের নির্বাচনে নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে আলাদাভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করেছেন। তারা যখন শপথ অনুষ্ঠান করছিলেন, কাবুলে তখন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ ক্ষমতাসীন আশরাফ ঘানি কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সোমবার এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদসহ বিদেশী কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সময়ে ঘানির প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহও তার নিজের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দর কষাকষি হলেও কোন সমাধানে তারা আসতে পারেননি। টেলিভিশন স্টেশানগুলো দুটো শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানই পাশাপাশি সম্প্রচার করে।

প্রেসিডেন্টের অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, সোমবারের বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে এটা জানা যায়নি যে, ঠিক কোথায় বিস্ফোরণ হয়েছে। ইসলামিক স্টেট এর দায় স্বীকার করেছে।

ঘানির অনুষ্ঠান থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে ঘানি তার জ্যাকেট খুলে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, “এটা কোন বর্ম নয়, এটা কাপড় মাত্র। আফগান জনগণের জন্য এটা উৎসর্গ করা হয়েছে। আফগানিস্তানের জন্য [দেশের] মাথা আত্মোৎসর্গের জন্য প্রস্তুত”।

তালেবানদের হামলার আশঙ্কা, এবং ব্যাপক হতাশার কারণে ২৮ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে রেকর্ড কম পরিমাণ ভোটার উপস্থিতি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে এসে ৭০ বছর বয়সী ঘানিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ৫০.৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

কিন্তু অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা, শত্রুপ্রবণ নির্বাচনী কর্মী, ভোট কারচুপিসহ নানা অভিযোগে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নিজের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আব্দুল্লাহ।

৫৯ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি যদি ঘানির সাজানো বিজয়কে মেনে নেন, তাহলে ‘আফগানিস্তানের গণতন্ত্র এখানেই শেষ হয়ে যাবে’। অচলাবস্থা নিরসনের জন্য তিনি নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানান।

আফগানিস্তানে নিযুক্ত সাবেক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি কাই এইডি টুইটে লিখেছেন: “ভয়ঙ্কর দুঃখজনক ও বিপজ্জনক। দুটো পাশাপাশি অনুষ্ঠান। এটা কোনভাবেই চলতে পারে না। জোরালো ঐক্য লাগবে, ক্ষতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়”।

আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছে যে, তারা ১.৮২ মিলিয়ন ভোট গুনেছে এবং প্রায় ১ মিলিয়ন ভোট বাতিল করে দিয়েছে। দেশে প্রায় ৯.৬ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে।

এই বিবাদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আফগান সরকারকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে এবং তাদেরকে বিভক্ত করে ফেলবে। বিশেষ করে যেখানে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তালেবানদের চুক্তি হয়েছে এবং চুক্তির অধীনে দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র সাউথ এশিয়ান মনিটর

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: