আাদিতমারীতে চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে বেরিয়ে এলো দূর্নীতির নানান তথ্য

এস এম আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ফলে বেড়িয়ে আসছে দূর্নীতির নানান তথ্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনসুর উদ্দিন উপজেলার ১৮ কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। পরে ইউএনও’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস। দুপক্ষের বিরোধ নিয়ে সর্বত্র চলছে সমালোচনার ঝড়। একে একে বেড়িয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব দুর্নীতির তথ্য।

ইউএনও মনসুর উদ্দিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, ফারুক ইমরুল কায়েস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পরেই অশোভন-অপেশাদার, উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে থাকেন।

ওইসব অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ্য করে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, মনসুর উদ্দিন এই উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর উপজেলাটিকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন। প্রত্যেকটি কাজেই উৎকোচ আদায় করেন তিনি। তার অনিয়ম দুর্নীতিতে ঠিকাদার, ইউপি চেয়ারম্যান, অধীনস্থ কর্মকর্তারা অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। কিস্তু ভয়ে কেউ-ই মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।


আরও পড়ুন


উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ইউএনও মনসুর উদ্দিন কাল্পনিক প্রকল্প দেখিয়ে এবং একই প্রকল্প বারবার দেখিয়ে সরকারের অপ্রত্যাশিত খাতের টাকা নিজের খেয়াল খুশিমতো ব্যক্তিগত কাজে খরচ করছেন। হাট-বাজারের ইজারার ২০ শতাংশ টাকা ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও সেই টাকা তহবিলে রেখে তাদের হয়রানি করেন। পরে মোট টাকার ১০ শতাংশ টাকা কমিশন নিয়ে ছাড় করেন তিনি। প্রত্যকটি উন্নয়ন কাজে নিজের পছন্দসই ঠিকাদার নিয়োগ ও কোন কোন কাজের ঠিকাদারি নিজেই করেন।

তবে উপজেলার সাধারণ মানুষজন বলছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও দুই জনেই জনগণের সেবক। তাদের কাজ জনগণের উন্নয়নকেন্দ্রীক। তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। অবশ্যই নেপথ্যে তাদের নিজস্ব স্বার্থ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভাগাভাগি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের সাথে ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সম্প্রতি এডিপি ও আশ্রয়ন প্রকল্পর ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা পায়। গত বৃহস্পতিবার মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকা তৈরি নিয়ে সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ ধারণ করে।

সস্প্রতি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তুঙ্গে ওঠেছে। দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে সর্বত্র চলছে সমালোচনার ঝড়। ফলে একে একে বেড়িয়ে আসছে চাঞ্চল্যকরে সব দুর্নীতির তথ্য।

স্থানীয়রা বলছে, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস শহীদ পরিবারের সন্তান। তার বাবা সামসুল ইসলাম সুরুজ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাবার জনপ্রিয়তা দেখে একটি মহল তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্বাবধানে ফারুক ইমরুল কায়েস বড় হয়েছেন। বাবার মতো আজ ফারুক ইমরুল কায়েসও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ওই বিশেষ মহলটি বাবার পর এবার সন্তানের বিরুদ্ধেও যড়ষন্ত্র করছেন।

তবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র পাল্টাপাল্টি সব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছে উপজেলার সাধারন মানুষ।


আরও পড়ুন


এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস হত্যার হুমকি দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তুলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ইউএনও মনসুর উদ্দিন।

পাশাপাশি পরিষদের সরকারি চেক বইয়ের ১৯টি পাতা ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এনে ইউএনওর সুপারিশে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর হাবিবুর রহমানের একটি আবেদন থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে।

যদিও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব ক্ষেত্রে ইউএনও’র অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়গুলো এখন সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। তাই সাধারণ জনগণের নজর ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করতে নাটক করছেন ইউএনও।

তিনি আরো বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বিশেষ প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগসাজশ করে আমাকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনসুর উদ্দিন বলেন, আমার সকল অভিযোগ লিখিত আকারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং সাধারণ ডায়েরি করেছি। এর বাইরে আমার কোন বক্তব্য নাই।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও’র পাল্টাপাল্টি সকল অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি । সেখান থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: