‘ইউক্রেনকে রক্তের বন্যায় ডুবাতে চান পুতিন’

- Advertisement -

ইউক্রেন অভিযানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রিজার্ভ সেনা মোতায়েন পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রিজার্ভ সেনা পাঠিয়ে ইউক্রেনকে রক্তের বন্যায় ডুবাতে চান পুতিন। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) পুতিনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই এ মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের ন্যাটোয় যোগদান ঠেকাতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে ‘বিশেষ’ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর প্রায় সাত মাস ধরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ অভিযানে ইউক্রেনের এক পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী।

তবে রুশ অধিকৃত ওইসব এলাকা পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে সম্প্রতি পাল্টা হামলা শুরু করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গত কয়েক সপ্তাহে কিছু সফলতাও পেয়েছে তারা।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ প্রদেশের ইজিয়াম শহর দখলমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে কিয়েভ। রুশ বাহিনীর এ পিছু হটায় গত কয়েকদিন কার্যত চুপই ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সেই নীরবতা ভেঙে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।

এদিন জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ভাষণে রাশিয়ার রিজার্ভ সেনার একাংশকে ইউক্রেন অভিযানে মোতায়েনের ঘোষণা দেন পুতিন। এজন্য প্রায় ৩ লাখ সেনাকে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। পুতিন এমন সময়ে এ ঘোষণা দিলেন যখন ইউক্রেনে রুশ অধিকৃত চারটি অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।

‘ইউরোপ রাশিয়াকে পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়ে আসছে’ বলে অভিযোগ করে ভাষণে পুতিন বলেন, পশ্চিমারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায়। রাশিয়ার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এটি অব্যাহত থাকলে মস্কো তার বিশাল অস্ত্রাগারের সব শক্তি দিয়ে জবাব দেবে। আর জবাব দেয়ার জন্য রাশিয়ার কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে।

পুতিনের এ ঘোষণার পর রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু জানান, প্রাথমিকভাবে সামরিক অভিজ্ঞতা আছে, রিজার্ভ সেনার এমন প্রায় তিন লাখ নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পুতিনের এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর এর প্রতিক্রিয়ায় জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, পুতিন আসলে ইউক্রেনকে রক্তের বন্যায় ডুবাতে চাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এরপরও দখল হওয়া ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা পরিকল্পনা অনুসারে একটু একটু করে অগ্রসর হব। আমি নিশ্চিত আমরা আমাদের ভূখণ্ড মুক্ত করব।’

পুতিনের এ ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমারাও। পুতিনের বক্তব্যের পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ মন্ত্রী গিলিয়ান কিগান স্কাই নিউজকে বলেন, পুতিনের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়। স্পষ্টতই এটি এমন হুমকি, যা আমাদের খুব গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত। কারণ আমরা যেমন নিয়ন্ত্রণে নেই, আমি নিশ্চিত যে, তিনিও (পুতিন) নিয়ন্ত্রণে নেই।

এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে ১ লাখ ৩৭ হাজার সদস্য বাড়ানোর এক নির্দেশনায় (ডিক্রিতে) সই করেন পুতিন। বর্তমানে রুশ সামরিক বাহিনীতে মোট সদস্য সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বেসামরিক কর্মী রয়েছে প্রায় ৯ লাখ।

পুতিনের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২০ লাখ ৩৯ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে সামরিক সদস্য হবে ১১ লাখ ৫০ হাজার ৬২৮।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ