ইরাকে বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্ট ত্যাগ করার নির্দেশ

- Advertisement -

ইরাকে পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে বিক্ষোভরত প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের সমর্থকদের পার্লামেন্ট ভবন ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ আগস্ট) সদরপন্থি এক নেতা বিক্ষোভকারীদের এ নির্দেশনা দেন। তবে পার্লামেন্টের বাইরে গ্রিন জোনে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

মুক্তাদা আল-সদরের প্রতিপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার বিরোধিতা করে গত সপ্তাহে রাজধানী বাগদাদে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। গত শনিবার (৩০ জুলাই) বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

সেদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১২৫ জন আহত হন। এর আগে গত সপ্তাহে শত শত বিক্ষোভকারী কঠোর নিরাপত্তাবলয় ভেঙে দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়েন।

ইরাকের পার্লামেন্ট ভবনটি রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে অবস্থিত। গ্রিন জোনে ইরাক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। আছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। অনেকটা শ্রীলঙ্কার মতো করে পাঁচ দিন ধরে পার্লামেন্ট দখল করে বিক্ষোভ করছে শত শত সদর সমর্থক।

তবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পার্লামেন্ট ভবন ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (৩ আগস্ট) মোহাম্মদ সালেহ আল ইরাকি নামে সদরপন্থি এক সিনিয়র নেতা এক টুইটবার্তায় সমর্থকদের পার্লামেন্ট ভবন ছেড়ে গ্রিন জোনে বিক্ষোভ করার নির্দেশ দেন।

সদর ও তার সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ আল-সুদানির বিরোধিতা করছেন। কারণ, তাদের মতে আল-সুদানি ইরানের ঘনিষ্ঠ। গত শনিবার মোহাম্মদ আল-সুদানিকে প্রধানমন্ত্রী পদে ঘোষণা করতে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টে ঢুকে পড়ার ঘটনার পর ওই অধিবেশন স্থগিত করা হয়।

ওই ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবদেল ওয়াহেদ বলেন, আল-সদরের সমর্থকরা আবারও একই ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ, তারা পার্লামেন্টকে বিশ্বাস করে না, ভোটের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া বিশ্বাস করে না।

গত বছরের অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে অধিকাংশ আসন পায় সদরের রাজনৈতিক জোট। কিন্তু সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি তারা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয় সদরের জোট। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার আগে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তখন আল-সদর পার্লামেন্ট থেকে তার জোটকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ঘোষণা করেন যে তিনি সরকার গঠনের আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

ইরাকের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে চরম বিরোধ বিরাজ করছে। এ কারণে দেশটিতে ১০ মাসেও একটি নতুন সরকার গঠন করা যায়নি। ২০০৩ সালে তেল সমৃদ্ধ দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন। এরপর এই প্রথম দেশটিতে এত দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ