ঈদ উদযাপনের অঙ্গীকার হোক আত্মসচেতনতার

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্রান্তিকালে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা এমন সময়ে পালিত হচ্ছে করোনায় মৃত্যুর ও সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে,লাশের মিছিল বড় হচ্ছে।যে যেখানে আছেন সেখানেই সীমিত পরিসরে নিজ পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করুন। কারণ পৃথিবীর মানুষের কাছে নতুন উপদ্রব করোনাভাইরাস। এর মারাত্মক ছোবলে প্রত্যেক মানুষ নাজেহাল। এই মারণব্যাধিকে প্রতিরোধ করতে গেলে চিকিৎসা যেমন জরুরি প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম বিধিপালন একান্ত প্রয়োজন। যা সুস্থ ও অসুস্থ সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৬ মাস ধরে আমরা প্রতিনিয়ত করোনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত। এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি করোনা থেকে নিরাপদ দূরত্ব অবস্থান করে নিয়মকানুনগুলো আয়ত্ত করা জরুরি। বাস্তব প্রেক্ষাপট ঠিক তার বিপরীত। স্বাস্থ্যবিধি মানার তোয়াক্কা নেই। গ্রামে মাস্ক পরায় অনীহা প্রায় সকলের। কিন্তু শহরাঞ্চলে! যেখানে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী উপচে পড়ছে, অক্সিজেনের জন্য হাহাকার, লাশের মিছিল বড় হচ্ছে- সেখানেও কি সাধারণ মানুষ সচেতন?

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, ব্যবহৃত মাস্ক যেন যত্রতত্র না ফেলা হয়। ব্যবহৃত মাস্ককে ডাস্টবিনে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা বাঙালি বাংলার রাস্তাঘাট, অলিগলিতে মানুষের ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্কের ছড়াছড়ি আর একই সার্জিকাল মাস্ক কত সপ্তাহ ব্যবহার করি তার নেই ঠিক।সঠিক নিয়মে মাস্ক পরতে হবে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, কোভিড-১৯ বিদায় হওয়ার এখনো অনেক দেরি। কেননা, প্রতিটি মহামারীর দুই, এমনকি তিনটি পর্যন্ত ওয়েভ থাকতে পারে। উনিশ শতকের স্প্যানিশ ফ্লুতে দেখা গিয়েছিল তিনটি ওয়েভ, যার দ্বিতীয় ওয়েভ ছিল প্রথমটির চাইতে আরও ভয়ানক। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বিভিন্ন জার্নালে পড়ে এবং টিভি চ্যানেলে বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, তাতে নিশ্চিত হয়েছি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক টিকার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা। ভাইরাস একমাত্র নাক ও মুখ দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করে।

ভাইরাস সংক্রমণে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হলে, ভাইরাসের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিতে হবে। শুধু করোনা কেন, দেহে যে কোনো ভাইরাস, ধুলাবালি প্রবেশ কমিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে পারে মাস্ক। শুধু মহামারীকালই নয়, মাস্ক পরার অভ্যাস করতে পারলে সব সময় আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষায় একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যূহ আমরা পেতে পারি। জীবাণুমুক্ত বাড়ির পরিবেশ বা ঘর ছাড়া বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা জরুরি।

অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, বাজার, শপিংমল, যে কোনো জনসমাগমে মাস্ক পরাটা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অতীতের দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই শিথিল লকডাউনে, গ্রাম-মফস্বলের মেম্বার-চেয়ারম্যান ও স্থানীয় জনপ্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও যুবকদের দ্বারায় ভলান্টিয়ার দল গঠন করতে হবে। মানুষকে গণসচেতনতার জন্য সঠিক নিয়মে মাস্ক পরা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাট-বাজারে যাওয়া, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে। নাড়ির টানে ঈদ উপলক্ষে শহরের হাজার হাজার মানুষ গ্রামে বা মফস্বলে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে দেশের করোনায় সংক্রামণ ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে ফলে নিয়মিত মাস্ক পরা ওস্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়ি আশে পাশেই চলাফেরা করা।এ সময় বন্ধু-বান্ধবী, আত্মীয় স্বজন, এমনকি পাড়া প্রতিবেশী বাড়িতে না গিয়ে নিজের বাড়িতে অবস্থান করতে হবে।তা না হলে এর আকার আরও তীব্র হবে।

কর্মক্ষেত্রে ফিরার সময়, গণ-পরিবহনে, ট্রেন–বাস, লঞ্চ বা উড়োজাহাজে মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি ভ্রমণ করতে হবে।শারীরিক দুরত্ব রেখে চলাফেরা করা। করোনাকে শহর থেকে গ্রামে আবার গ্রাম থেকে শহরের গিয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া কোনো ক্রমেই উচিত নয়। চলাফেরা ভ্রমণ করার মাধ্যমেই কিন্তু করোনা বিস্তার বাড়ায়, তাই স্বাস্থ্য-সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং খুব জরুরি না হলে ভ্রমণ ও ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকুন । সার্বজনীন ঈদের আনন্দ ধারায় যেন বিষণ্ণতায় ভরা এক স্মরণীয় দিন আমাদের ঈদযাত্রা যেন শব যাত্রায় পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাই ঈদের আনন্দ মেটাতে প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। কঠিন পরিস্থিতি হলেও বেঁচে থাকাই হোক এবার ঈদ উদযাপনের অঙ্গীকার হোক আত্মসচেতনতার।

যদি আমরা নিজেরা সচেতন না হই, তাহলে ভালোবাসার মানুষগুলোর চিরবিদায় এর মাধ্যমে এর মাশুল গুনতে হবে। ঈদের আমেজের আনন্দে অসতর্কতা যেন ঈদ পরবর্তী সময়ে দুর্ভোগ বয়ে না আনে, সেদিকে নজর দিই। সতর্ক হয়ে ঈদের উদযাপনটা করি।

লেখক: রাশেদ ইসলাম, শিক্ষার্থী, জয়পুরহাট সরকারি কলেজ।
Email : [email protected]

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian