উইঘুদের নিয়ে বিবিসি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ

0
12
উইঘুদের নিয়ে বিবিসি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ
উইঘুদের নিয়ে বিবিসি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ

চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষজনকে তাদের বসতি থেকে দূরের অঞ্চলগুলোতে কৌশলে চাকরি দিয়ে পাঠাতে থাকায় জাতিগতভাবে আরও সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে তারা। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নতুন এই চীনা নীতির আদ্যপান্ত তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে উইঘুরদের ওপর জোর চালানো হচ্ছে। তাদের নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মূলত জিনজিয়ান থেকে আধিপত্য নষ্টের চেষ্টা করছে চীনা সরকার।

যদিও বেইজিংয়ের দাবি, উইঘুরদের জীবনমান উন্নয়নের জন্যই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

ভালো চাকরি আর উন্নত জীবন দেয়ার নাম করে বুজায়নাপ নামের এই মেয়েটিকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে বোঝান চীনা কর্মকর্তা। কিন্তু কিছুতেই রাজি নয় মেয়েটি। সবশেষে অশ্রুসিক্ত মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চার হাজার কিলোমিটার দূরের অজানা কোন এক জায়গায় পাড়ি দিতে বাধ্য হয় বুজায়নাপ। তার মতো উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ হাঁটছেন একই পথে। বেশিরভাগই বাধ্য হয়ে।

সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর চীনা সরকারের নির্যাতন আর গণহত্যার ঘটনা নানা সময়েই গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। দমন নিপীড়ন থেকে বাঁচতে অন্যান্য দেশে উইঘুরদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহই। আর এর জন্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে নিন্দার মুখেও পড়তে হয়েছে সরকারকে। এরই মধ্যে, এবার এই সংখ্যালঘু মুসলিমদের সম্প্রদায়কে আরও দুর্বল করে তুলছে নতুন সরকারি নীতি। তাদের সবচেয়ে বড় বসতি জিনজিয়ান প্রদেশ থেকে বহু দূরের অঞ্চলগুলোতে পাঠানো হচ্ছে চাকরির জন্য।

চীন সরকার বলছে, উইঘুরদের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব আর নিরক্ষরতা দূর করতেই নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা। কিন্তু সম্প্রতি চীনের নতুন এই নীতির আদ্যপান্ত নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি এক প্রতিবেদন ভুলবশত অনলাইনে চলে আসার পর তা বিশ্লেষণ করে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নতুন প্রকল্পটি এমনভাবেই তৈরি হয়েছে যা উইঘুরদের বাধ্য করবে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত একটি জীবনযাত্রা আর মানসিকতার সাথে অভ্যস্ত হতে। এতে অচিরেই হয়তো হারিয়ে যাবে ওই সম্প্রদায়ের নিজস্বতা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে একরকম জোর জবরদস্তি করেই হাজার হাজার মাইল দূরের অঞ্চলগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বসতভিটা আর পরিবারের কাছ থেকে।


আরও পড়ুন>>


দূরবর্তী অঞ্চলে চাকরি করতে ভালো না লাগলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে বলে কর্মীদের নিয়ে যাওয়া হলেও উইঘুররা কাজ করছেন এমন কয়েকটি কারখানা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিবিসির প্রতিনিধি দল। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানা যায়, ভালো নেই উইঘুররা। তারা চাইলেও কখনো বের হতে পারেন না সেসব কারখানা থেকে। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ করার সুযোগ পান না বলেও অভিযোগ মেলে।

এ অবস্থায় চীনের নতুন এই নীতি মূলত সংখ্যালঘুদের বিলুপ্তির পথেই ধাবিত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেয়া পদক্ষেপ, এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করা হয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।

Leave a Reply