এক সঙ্গে মরে যাওয়া সহজ, এক সঙ্গে বেঁচে থাকা তার চেয়েও জরুরী

আজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।

এক সঙ্গে মরে যাওয়া যতোটা সহজ, এক সঙ্গে বেঁচে থাকা তার চেয়েও জরুরী। কোন এলাকায় মহামারী ছড়িয়ে পরলে স্বভাবতই ওই অঞ্চলে অবস্থানকারী বাইরের মানুষগুলো আতংকিত হয়ে দলে দলে ওই এলাকা ত্যাগ করতে শুরু করে।

আমরা জানি, করোনার সংক্রমণের আতুর ঘর হচ্ছে চীনের হুবাই প্রদেশের উহান নগরী। চীন সরকার উহানের বাইরে অন্য কোন প্রদেশ বা অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়াতে দেয় নি।

উহান শহরকে তারা পুরোপুরি লকডাউন করে রেখেছিল যাতে সেখান থেকে কোন মানুষ অন্য অঞ্চলে ঢুকতে না পারে এবং অন্য অঞ্চলের মানুষও সেখানে আসতে না পারে। চীন হাতে নাতে এর ফল পেয়েছে।

গোটা বিশ্ব যেখানে ধুকছে সেখানে চীনারা মুক্তির আনন্দে উল্লাস করছে।
বিশ্বের অনেক দেশ করোনাকে তেমন পাত্তা না দেয়ার ভয়াবহ খেসারত দিয়ে যাচ্ছে। দেরিতে হলেও তারা চীনকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন। ইতালি ও স্পেন পুরো দেশ লকডাউন করে মৃত্যুর হাহাকার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাথামোটা ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কসহ অন্যান্য ঝুঁকি প্রবণ অঞ্চলগুলো কে লকডাউন না করায় সেখানকার পরিনতি গত একমাসে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা মহামারী রুপ ধারণ করতে একমাস বা তার চেয়ে একটু বেশি সময় নেয়।

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের বয়স (৯ এপ্রিল পর্যন্ত) একমাস এক দিন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩০ ।

এরই মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে ২১ জন মানুষ। আতংকের বিষয় হচ্ছে করোনায় মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ এশিয়ায প্রথম এবং সারা বিশ্বে দ্বিতীয়।

আরও পড়ুন- সখীপুরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকের মৃত্যু।

পরিসংখ্যান বলছে আজ থেকে এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভালো অনেক ভালো ছিলো। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে চলমান এপ্রিল মাস বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল।

বিশেষজ্ঞরা এ সময় বাংলাদেশ কে সর্ব্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। লক ডাউন এখন একমাত্র উপায়।

কিন্তু আমার জানামতে ঢাকা,নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের অন্যান্য ভালনারেবল অঞ্চলগুলোকে এখনও পুরোপুরি লকডাউন করা হয়নি।

গণ পরিবহন বন্ধ থাকলেও মহামারী প্রবন অঞ্চলগুলো থেকে বহু মানুষ মাল গাড়িতে,এম্বুলেন্সে, জরুরি সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য পরিবহনে এমনকি পায়ে হেঁটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করছে।

ইতোমধ্যে অনেক জেলা ও উপজেলার প্রবেশ মুখ বন্ধ করে সতর্ক পাহারা দিচ্ছেন এলাকার সচেতন মানুষ। এটি প্রশংসনীয়।

এই নিয়ে বাইরে থেকে নিজ এলাকায় ফেরা বা ফেরত ইচ্ছুক ব্যক্তিদের পরিবারের সাথে এলাকার মানুষের হট্রগোলের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। তারা এটিকে অমানবিক বলছেন। বিষয়টি অমানবিক বটে।

কিন্তু এটাই যে এখন পরিত্রাণের একমাত্র পথ।
কোথায় যেনো শুনেছিলাম,
Some times you have to be cruel to be kind.

তাছাড়া যেসব লোক সংক্রমিত অঞ্চল থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে নিজ স্বজনদের কাছে ফিরতে চায় তাদের প্রতি মানবতা দেখানোর কোন সুযোগ নেই।

মানবিক মানুষের প্রতি অমানবিকতা প্রদর্শন এবং অমানবিক মানুষের প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন একই রকম অপরাধ।

দেশের ক্রান্তিকালে নিজ এলাকা ছেড়ে করোনা মহামারী প্রবন অঞ্চলে অবস্থান করা মানুষগুলো এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মনের অবস্থা আমরা বুঝি।

কিন্তু আমাদের দেশটাও ইতালি,স্পেন বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো মৃত্যু পুরিতে পরিনত হোক নিশ্চয়ই এটা কারো কাম্য হতে পারে না। বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট স্বজনকে জড়িয়ে ধরে তাকে রক্ষা করতে প্রবৃত্ব হওয়া বিবেকবানের কাজ নয়।

এক সংগে মরা অনেক সহজ কিন্তু এক সংগে বাঁচা অনেক জরুরী।

আমরা মুসলমান। মানবিকতা আমাদের ধর্ম। একজন মানুষ আরেকজনের ক্ষতির কারন হোক ধর্ম সেটা অনুমোদন করেনা।

১৪০০ বছর পূর্বে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মহামারী থেকে বাঁচার জন্য মানব জাতি কে একটি উপায় বাতলে দিয়েছিলেন।

তিনি মহামারী আক্রান্ত এলাকার লোকজনকে ওই এলাকা ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন। ওই এলাকায় থেকেই বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এতে যদি কোন মুসলমান মারাও যায় তাহলে সে মৃত্যু হবে শাহাদাত সমতূল্য।

অনুরূপভাবে বাইরের মানুষকেও মহামারী প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করতে বারণ করেছেন মহানবী। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে কোয়ারান্টাইন বলা লক ডাউন মেথোড বলা হয়। এটাই একমাত্র রক্ষা কবজ। অমুসলিম চাইনিজরা সেটা প্রমাণ করেছে।

আপনার জীবন সৃষ্টিকর্তার দেয়া মহাপবিত্র আমানত। এ আমানত অনাদরে বিপন্ন করার কোন অধিকার আপনার নেই।
আসুন আল্লাহর উপর ভরসা রেখে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের সহায়তায় নিজ নিজ এলাকা নিজ দায়িত্বে লক ডাউন করে রাখি।

সচেতন থাকুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন,অন্যকে বাঁচতে দিন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তাঁর মহান কৃপাতেই একদিন ঠিক সুস্থ্য হয়ে উঠবে পৃথিবী।

##লেখকঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: