এমপির সাথে দূরত্ব, নির্যাতিত আওয়ামী লীগ কমিটি

- Advertisement -

রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছেন রাজবাড়ী জেলা ও পাংশা, কালুখালি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। প্রায় বছর খানেক ধরে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই ক্ষোভ জানান দিয়ে আসছে। সেই সাথে বেড়েছে এমপির সাথে তাদের দূরত্ব যা রূপ নিয়েছে জেলার পাংশা উপজেলায় সম্প্রতি গঠিত নির্যাতিত আওয়ামী লীগ নামে নতুন কমিটিতে।

যেখানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রায় ডজন খানেক নেতাকর্মী। যাদের মধ্যে অনেকে বছর দেড়েক আগেও ছিল আওয়ামী লীগের কমিটিতে। কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার পর অনেক নেতাকর্মীর উপরে চালানো হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। যার নীল নকশা এঁকেছেন স্বয়ং এমপি এমনটাই জানায় নির্যাতিত আওয়ামী লীগের এই কমিটির সদস্যরা।

পাংশা উপজেলার নির্যাতিত আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা ও জেলার বালিয়াকান্দি এবং কালুখালি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এমপি জিল্লুল হাকিম নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এড়িয়ে চলতেন। ইউপি, উপজেলা পরিষদ ও পৌর নির্বাচনে কাজ করতেন নৌকা প্রতীকের বিপরীতে। নির্বাচন এলেই উপজেলা আওয়ামী লীগকে তিনি চিনতেন না। নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেওয়া তো দূরে থাক উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমেও তাকে পাওয়া যেত না। সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি হলেও স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাথে ওনার কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। উনি আওয়ামী লীগের কারো সাথে যোগাযোগ রাখেন না। উনি কখনও দলীয় কার্যালয়ে যান না। দলীয় কোনো প্রোগ্রামে অংশও নেন না। রাজবাড়ীতে আসলে দলের কাউকে জানাতেন না। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে ফাঁটল ধরাতে তিনি হাইব্রিড কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করেন। এসকল বিষয়ে তাকে কিছু বলতে গেলেই দল থেকে করা হয় বহিষ্কার।

আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি ও জেলা কমিটির সভাপতি হয়েও একে একে দুঃসময়ে যারা আওয়ামী লীগের জন্য রাজপথে লড়াই করেছেন তাদেরকে হাইব্রিডদের পদ দেওয়ার জন্য কমিটি থেকে বাদ দিয়েছেন। শুরু করেছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ বাণিজ্য।

আহম্মদ হোসেন, নির্যাতিত আওয়ামী লীগের পাংশা উপজেলার একজন সদস্য। তিনি উপজেলার ৮নং সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পাংশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের একজন সদস্য। অধ্যাপক ফরিদ হাসান ওদুদ, পাংশা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত উপজেলার সফল চেয়ারম্যান। ছিলেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। দিবালুক কুন্ডু জীবন, ছিলেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম খান ছিলেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ছিলেন রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এরকম আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছে নির্যাতিত আওয়ামী লীগের এই কমিটিতে। যারা পূর্বে আওয়ামী লীগের পদে থাকলেও এখন নামের আগে সাবেক লাগিয়ে ঘুরছেন।

পাংশা উপজেলার মতোই এমপি জিল্লুল হাকিমের নির্বাচনী অন্য দুটি উপজেলায় (বালিয়াকান্দি ও কালুখালি)’ও রয়েছে প্রায় ডজন দুয়েক নেতাকর্মী। সাধারণ মানুষের কাছে যাদের রয়েছে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা। অনেকে ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সফল হয়েছেন।

এব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর মর্জি বলেছেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থ বা সুবিধা পাওয়ার প্রশ্ন যখন সামনে আসে, তখন মাঠের ত্যাগী নেতাকর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। সুবিধা পাওয়ার জন্য দলের বাইরে থেকে অর্থের বিনিময়ে সভাপতির মন জুগিয়ে অনেকে দলে আশ্রয় পাচ্ছেন। তারাই বেশি ক্ষতি করছে। তাদের মতো লোকজন আমাদের দলে ঢুকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয় করার অপচেষ্টায় আছেন। অনেক নেতাকর্মীকে তারা নিষ্ক্রিয় করতে সফলও হয়েছেন।’

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য-৪০ (রাজবাড়ী) এ্যাডভোকেট খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় কারও একার নয়। কিন্তু রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলার কার্যালয়গুলোকে নিজের একার কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছেন। গত ১৫ আগস্টে পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকতে আমাকে বাধা প্রদান করা হয়েছিল। তৃণমূলে দলের যারা ডেডিকেটেড নেতা কর্মী আছে, তাদের অনেকেই এখন কমিটির পদ হারা। অনেকে নিস্ক্রিয় হয়ে গেছেন।’

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ