ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষীয় রায়পুর এলএম স্কুল জাতীয়করনে আর কতো অপেক্ষা?

(পর্ব -১) : এল.এম. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় অবস্থিত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় জমিদার সেরাজুল হক চৌধুরী, ওরফে শাহজাদা মিয়া,১৯১১ সালের ১ জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত, এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্কুলটি সরকার একটি পাইলট স্কুল হিসেবে গড়ে তুলেছিল এবং ২০০০ সালের পরে এটি দেশের একটি মডেল স্কুল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। স্কুলটি ২০১১ সালে তার শততম বছর উদযাপন করেছে। স্কুল ভবনটি একটি ব্রিটিশ স্থাপত্যের আদলে নির্মিত হয়েছিল।

স্কুলের প্রথম নাম ছিল জর্জ কর্নওয়ালিস হাই ইংলিশ স্কুল। অল্প বয়সে শাহজাদা মিয়ার মৃত্যুর পর তার দাদা এমদাদ আলী চৌধুরী বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মৃত জমিদার এমদাদ আলী চৌধুরীর ছেলে আলহাজ গাজনফর আলী চৌধুরী ওরফে চুনু মিয়া দীর্ঘদিন স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় রায়পুর লিয়াকত মেমোরিয়াল বহুপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় (রায়পুর এল এম এম উচ্চ বিদ্যালয়), তার ভাতিজা ব্যারিস্টার লিয়াকত আলী চৌধুরীর নামানুসারে, যিনি অল্প বয়সে ইংল্যান্ডের লন্ডনে মারা যান।

তবে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলএম পাইলট ভিত্তিহীন অভিযোগে জাতীয় করনের দাড়প্রান্তে এসে বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে । একটি প্রতিপক্ষ পাকি প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের নামে প্রতিষ্ঠিত লক্ষীপুর জেলাধীন রায়পুর উপজেলার ‘রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়টি’ রাজাকারের নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলের তালিকাভুক্ত করেছে মন্ত্রণালয় বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় ও প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী কার্যালয়ে ভুল তথ্য প্রদান করে বাধাগ্রস্ত করেছে।


আরও পড়ুন>>


বছরের পর বছর ধরে সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা সারাদেশে উপজেলা সদরের ভালো স্কুলের তালিকায় রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়টির নামটি জোট সরকারের আমলে ছিলো।পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি করা ৩০৬ মডেল স্কুলের তালিকায়ও রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়টির নাম ছিলো।

শুধু তাই নয়, জাতীয়করণের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক সম্মতিপ্রাপ্ত তালিকায়ও নাম ছিল রায়পুরের এই স্কুলের। তবে, স্কুলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও শিক্ষকসহ সব তথ্য জানার পর ২০১৬ সালের তালিকা থেকে রায়পুর স্কুলের নাম বাদ দেয়ার আদেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষাসচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, “জুলাই মাসের তালিকার ৩০ নং ক্রমিকে থাকা লক্ষীপুর জেলাধীন রায়পুর উপজেলার ‘রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়’ অনিবার্য কারণে বাতিল করা হলো।”

একই চিঠিতে আরো বলা হয়, লক্ষীপুর জেলাধীন রায়পুর উপজেলার ‘রায়পুর মার্চ্চেন্টস একাডেমি’ জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো:শাহজাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের নামে প্রতিষ্ঠিত রায়পুর এম এল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নাম করন করায় নাকি! এটি জাতীয় করন থেকে বাদ দেয়ার তদবির উঠে। তারই কারনে বাদ পড়ে জাতীয় করন। কিন্তুু বিষয়টি দুঃখজনক।

রায়পুর এলএম পাইলট মডেল স্কুলের জাতীয় করন আটকে যাওয়ার বিষয়ে আলাপ হলে প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি সূনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রায়পুরের অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের কোন তিক্ততা নেই। পাকিস্তানের কোন রাজনীতিবিদের নামে নয়, রায়পুরের জমিদার পরিবারের শিক্ষানুরাগী আলহাজ গজনফফর আলী চৌধুরী ওরফে চুনু মিয়া দীর্ঘদিন স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় রায়পুর লিয়াকত মেমোরিয়াল বহুপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় (রায়পুর এল এম উচ্চ বিদ্যালয়), তার ভাতিজা ব্যারিস্টার লিয়াকত আলী চৌধুরীর নামানুসারে, যিনি অল্প বয়সে ইংল্যান্ডের লন্ডনে মারা যান তাকে স্মরণ এর মধ্য দিয়ে নামকরণ করা হয়। জাতীয়করন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সংস্কার কার্যক্রম ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক সুবিধা থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারীরা বঞ্চিত। প্রয়োজনে মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর তদন্ত পূর্বক যাচাইযোগ্যতা করুক।
…………..ধারাবাহিক পর্ব

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ