কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাড়ছে অপহরণ

- Advertisement -

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো হয়ে উঠেছে অপহরণকারীদের নিরাপদ আস্তানা। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় আর হত্যার ঘটনায় চরম উদ্বেগে বাসিন্দারা। এ সব ঘটনায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে স্থানীয়রাও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

টেকনাফের বাহারছড়ার উত্তর শিলখালীর বাসিন্দা মাহামুদুল করিম-অটোরিকশাচালক। ৩১শে জুন রাতে হোয়াইক্যাং থেকে শামলাপুর স্টেশনে ফেরার পথে গাড়ি থামিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। স্বজনরা মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা দিয়েও তাকে জীবিত ফেরাতে পারেনি। মাস খানেক পর তার মরদেহ পাওয়া যায় পাহাড়ি এলাকায়।

নিহত মাহামুদুল করিমের ভাই ওয়াজ করিম বলেন, টাকা না পেলে তোর ভাইকে মেরে ফেলবো আমাকে ফোন করে এমন হুমকি দেয়। তারা আমাদের একটা বিকাশ নাম্বার দেয় সেখানে আমরা ৫০ হাজার টাকা পাঠাই।

জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৬ এপিবিএন নিয়ন্ত্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৬৪টি অপহরণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। অপহরণের ঘটনা আছে আরো শতাধিক।

পরিস্থিতি এমন, আতঙ্কে অনেকে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকেও বের হন না। স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও এই অপরাধে জড়িতদের বিচার চান।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে অপহৃত এক ব্যক্তিকে কুতুপালং ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব। আবার ক্যাম্প থেকে অপহৃত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয় চকরিয়ায়। এসব কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে স্থানীয় অপরাধীরা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বলছেন অনেকে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এখন পর্যন্ত যেসকল অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এখনই এসব বিষয়ে আরও জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে।

এপিবিএনও বলছে, এসব অপরাধে স্থানীয়দের যোগসাজশ পাওয়া গেছে। ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ী এলাকাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি অপরাধ চক্র গড়ে উঠেছে। কিছু কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা এবং বাঙালিরা একত্র হয়ে যায়।

চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা অপরাধে ১ হাজার ১৪টি মামলা হয়েছে। আসামি ২ হাজার ৬৮৭ জন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ