কষ্টে আছে মুচি সম্প্রদায়, নেই কোন আর্থিক সহায়তা! নেই স্থায়ী বসার জায়গাও!!

তোফাজ্জল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার।।

যুগ যুগ ধরে আমাদের পায়ের জুতা সৌন্দর্যবর্ধক করণ, মেরামত ও তৈরি করার কাজে নিয়োজিত আছে মুচি সম্প্রদায়। করোনায় প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সারা বাংলাদেশসহ বগুড়া শেরপুর উপজেলার মুচি সম্প্রদায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক মুচি পরিবার অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা।

উপজেলার বাস স্ট্যান্ড, প্রোগ্রেসিভ স্কুল এন্ড কলেজে, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, শেরপুর ডি, জে, হাই স্কুল, ধুনট রোড, করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে, মহিপুর বাজার, সামিট স্কুল এন্ড কলেজ, কিচেন মার্কেট (সাবেক রঙ্গিলা সিনেমা হল) এসব বিভিন্ন জায়গায় বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন তারা। আবার কেউ কেউ পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জুতা মেরামতের কাজ করেন। তবে করোনায় কাজ না থাকায় বেশিরভাগ মুচি ঘরে বসে আছেন। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে কাজে বসলেও মিলছে না আশানুরূপ পারিশ্রমিক ও কাস্টমার।

শেরপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অনেককেই মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বসে তাদের সেলাইয়ের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র শান দিচ্ছে। তবে তাদের কারো কাছেই মাস্ক ছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা সরঞ্জাম দেখা যায়নি।

শেরপুর পৌর এলাকার উত্তর শাহ পাড়ার রবি চন্দ্র দাস জানান,’আমার দুই মেয়ে, এক ছেলে রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বর্তমানে আমি, আমার স্ত্রী ও জীবিত একমাত্র সন্তান গৌর চন্দ্র দাস বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। রোগ-শোকে কোন রকমে বেঁচে আছি। ইনকাম না থাকায় পরিবার নিয়ে দু’ বেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে কীভাবে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করব, যেখানে চিকিৎসার অর্থই জোগাড় করতে পারি না। কাজ একদম কম। লকডাউনের কারণে তো আগের মতো মানুষের চলাফেরা নাই। সারাদিনে একশ টাকারও কাজ হয় না। লকডাউনের আগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ ‘টাকা পর্যন্ত কাজ করতে পারতাম।’

শেরপুর উপজেলার বাস স্ট্যান্ড এলাকার মুচি পরেশ চন্দ্র পাল জানান, বাপ দাদার পেশা ছেড়ে অনেকেই ঢাকা গিয়ে নাপিত পেশায় যোগদান করেছে। এছাড়া কেউ কেউ রিক্সাও চালায়। আমার ছেলে সেলুনে চুলকাার কাজ করে। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে আমরা অন্য কিছু করার সামর্থ নেই। তাই কষ্ট হলেও এই পেশায় আছি।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে বার্মীজ জুতা বাজারে আসায় চাড়ার জুতা অনেকেই পড়ে না। এ কাজ করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।”

মুচি নিত্য চন্দ্র দাস বলেন, করোনা আসার পর থেকে আমাদের কেউ কোনো সহযোগিতা করে নাই। আমরা কিভাবে দিনপাত করি এটা দেখার কেউ নাই। আমরা কি এদেশের নাগরিক না? আমরা কি ভোট দেই না? করোনার কারণে আমাদের ইনকাম নাই বললেই চলে এভাবে আমাদের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া মুচি শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন,’ ২ লক্ষ টাকা খরচ করে আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একদিকে লকডাউন এর কারণে লোকজন তেমন বাইরে না আশায় কাজ কম অপরদিকে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এসময় সরকারি কিছু সাহায্য পেলে আমাদের দুঃখ কিছুটা লাঘব হবে’।

শেরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল হক বলেন,মুচি সসম্প্রদায়ের ওপর বিশেষ কোন বরাদ্দ নেই তবে তারা দরিদ্র অসহায় জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হয়ায় বয়স্ক ভাতা, ভিজি এফ এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি থেকে সাহায্য পেয়ে থাকেন।

শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকা বলেন, কিছুই সাহায্য পায় না এ কথা ঠিক নয় তবে আমরা সরকার থেকে যে বরাদ্দ পাই তা সবাইকে একসঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য যথেষ্ট নয়। পর্যায়ক্রমে সবাইকে সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সড়ক ও জনপদ বিভাগের সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পরেই আমি তাদের স্থায়ীভাবে বসার জায়গা করে দিব যাতে করে একদিকে যেমন জুতা মেরামত কারির অপরদিকে কাস্টমারের সুবিধা হয়।’

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian