কিমের দেশে জ্বরে ২১ মৃত্যু!

- Advertisement -

উত্তর কোরিয়ায় শনিবার (১৪ মে) ২১ জনের ‘জ্বরে’ মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ। প্রথমবারের মতো কোভিড -১৯ ভাইরাস শনাক্তের খবরের পর দেশটিতে দুইদিন আগে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

এদিকে শুক্রবার (১৩ মে) ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৪০ জনের জ্বর শনাক্ত হয়েছে। কেসিএনএ ২১ জনের মৃত্যুর কথা জানালেও কতজনের কোভিড-১৯ এ মৃত্যু হয়েছে তা জানায়নি।

রয়টার্স জানায়, উত্তর কোরিয়ার কোভিড পরীক্ষা করার সক্ষমতার কমতি আছে। যে সংখ্যক কোভিড রোগীর আক্রান্তের কথা প্রকাশ পেয়েছে তার চেয়েও বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কোভিড ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন না থাকায় হাজারো মৃত্যু হতে পারে।

কেসিএনএ জানায়, দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি এক জরুরি সভায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ জনের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে এবং অজ্ঞাত জ্বরে ২৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়।

কেসিএনএ কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে জানায়, ভয়াবহ মহামারি আমাদেরকে টালমাটাল করে দিচ্ছে। এছাড়াও এক টিভি ভাষণে প্রথমবারের মতো মাস্কও পরতে দেখা যায় কিমকে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) করোনা মহামারি শুরুর প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ায় কোভিড শনাক্তের কথা জানা যায়। এর পরপরই মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ভাইরাসটির লাগাম টেনে ধরতে দেশজুড়ে জারি করা হয় কঠোর লকডাউন।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মিডিয়া জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় সব মানুষকে ঘরবন্দি থাকতে বলা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া জনগণকে কোনো কোভিড-১৯ টিকা দেয়নি। চীনের তৈরি সিনোভ্যাক টিকা ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও দেশটি সাড়া দেয়নি। করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পরই তারা সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ভেবেছিল, এ পদক্ষেপের মাধ্যমেই দেশে ভাইরাসটির প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী চীনে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর আগে উত্তর কোরিয়া কখনো করোনা আক্রান্তের খবর জানায়নি। উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখেছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ