কিশোরগঞ্জে উপবৃত্তি পেতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়

মাফি শেখ, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় উপবৃত্তি পেতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে । প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫শ থেকে ১১শ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অবিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেকেন্ডারী ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম(এসইডিপি) এর আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৬ষ্ট থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত ৬৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের মোট ২২২১ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির তালিকায় নিয়ে আসা হয়। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষাথর্ীদের টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি মওকুফ থাকবে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে উপবৃত্তির তালিকায় অন্তরভুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন প্রকার অর্থ আদায় করা যাবেনা। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানগণ উপবৃত্তির তালিকাভুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ শ থেকে ১১ শ করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা ঘেঁটে ও সরেজমিনে চাঁদখানা বুড়িরহাঁট এ ইউ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে জানা গেছে, করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ থাকলে প্রতিষ্টান প্রধান আবুবক্কর সিদ্দিক মোবাইলে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্টানে ডেকে এনে উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তরভুক্ত করার জন্য টাকা প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭শ থেকে ১১শ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, কাজল রেখা, শামিমা আক্তার, সাথী আক্তার, সৃতি আক্তার,সাজেদা আক্তার সহ সকলেই একই অভিযোগ করেন।


আরও পড়ুন>>


মেলাবর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক বালিকা রানী রায়, শিক্ষার্থী প্রতাপ চন্দ্র রায়, সঙ্গিতা রানী রায়, কাজলরায় সহ অনেকেই বলেন, আমাদের কাছ থেকে উপবৃত্তি করে দেওয়ার জন্য ৫শ থেকে ১১ শ পর্যন্ত টাকা নিয়েছেন।

নয়ানখাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, রহিমা খাতুন,জান্নাতি বেগম,আরেফা বেগম,মোবাশেরিন বেগমসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কাছ থেকে প্রতিষ্টানের অফিস সহকারী মঞ্জুরুল ইসলাম উপবৃত্তির তালিকায় না দিতে ৭শ করে টাকা নিয়েছেন।

নয়ানখাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জলিলুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তরভুক্ত করতে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, এসব ভোকাজ(ভুয়া) কথা।

মেলাবর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রিয়নাথ রায়ের সাথে কথা বললে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপবুত্তি তো দুরের কথা ভর্তিতেই কোন টাকা নেইনি।

চাঁদখানা এইউ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুবক্কর সিদ্দিকের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার জন্য মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ বলেন, উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তরভুক্ত করতে কোন টাকা নেওয়ার বিধান নেই।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার রোকসানা বেগম বলেন, উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তরভুক্ত করতে যদি কোন প্রতিষ্টান প্রধান টাকা নিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

- Advertisement -

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian
%d bloggers like this: