কুষ্টিয়ায় যৌতুকলোভী স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সম্রাট শাজাহান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

একটি মোটরসাইকেল যৌতুকদাবি করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক মতিয়ারা ও মিলনের শুভ বিববাহ পড়ানো হয় পারিবারিকভাবে।কিন্তু গাড়ি কেনার টাকা দিতে ব্যর্থ হলেও জোরপূর্বক চাপ সৃষ্টি করে যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সামাজিকভাবে বিয়ের চলন করে মিলনের পরিবার।

তখন থেকেই শুরু হয় স্বামী ও তার পরিবারের সাথে মনোমালিন্য।দিনেদিনে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।এরমধ্যে বিয়ে চলনের দুইমাসের মাথায় গর্ভবতী হয় মতিয়ারা।গর্ভে কন্যা সন্তান জানতে পেরে স্বামীর পরিবারের যৌতুকের টাকার পরিমান, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বেড়ে যায়। বাড়ির বউ হলেও চাকারানীর মতই খাটানো হয়।

এরপর একেএকে যখন তিনটা কন্যা সন্তান প্রসব করেন গৃহবধূ মতিয়ারা তখন নির্যাতনের মাত্রা তীব্রতা ধারন করে। দ্বিতীয় বিয়ে করেন স্বামী মিলন। এক পর্যায়ে পারিবারিক কলহ, যৌতুকের টাকার পরিমান, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সর্বোচ্চ মাত্রায় দাঁড়ালে যৌতুকলোভী স্বামী, কন্যা সন্তানদ্বয় ও সংসার রেখে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরকালে যাওয়ার জন্য নিজ ঘরে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করে এই নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ।

শেষমেষ হাসপাতালে ঠাঁয় মেলেছে তার। যৌতুকলোভী পরিবার কর্তৃক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মতিয়ারা পারভীন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দড়ি মালিয়াট গ্রামের মিলনের স্ত্রী ও দুর্গাপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের মেয়ে। যৌতুকলোভী স্বামী মিলন দড়ি মালিয়াট গ্রামের আকবর হোসেনের পুত্র।সে পেশায় একজন ফায়ার সার্ভিসের সার্ভিসম্যান।


আরও পড়ুন


জানা গেছে, ২০০২ সালে কুমারখালীর দুর্গাপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের কন্যার সাথে দড়ি মালিয়াট গ্রামের আকবর হোসেনের পুত্র মিলনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের শুরু থেকেই যৌতুকের জন্য দরকষাকষি করতে থাকে মিলনের পরিবার।

পরে একটি মোটরসাইকেল মিটিয়ে বিয়ে হয়।পরবর্তীতে মিলনের চাহিদা মেটাতে না পারায় শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাচন। মিলন পেশায় ফায়ার সার্ভিসম্যান হলেও চাকুরী দেওয়া কথা বলে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই টাকা পরিশোধের জন্য যৌতুকের দাবি জানায় শ্বশুড় বাড়ি।টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূ মতিয়ারার উপর স্ব পরিবারে নির্যাতন চালায়।

ভুক্তভোগী মতিয়ারা খাতুন(৩৫) জানান, ঝিনাইদহ কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ফায়ারম্যান হিসাবে কর্মরত আছেন পাষণ্ড। ১৮ বছরের বিবাহিত জীবনে প্রতিনিয়ত শারীরিক মানুষিক ও আর্থিক অনটনের মধ্যে রেখেছেন। সামান্য ত্রুটি পেলেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে নির্যাতন করেন।

গত ১৩ নভেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিলন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। যেকারণে শারীরিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিকেলে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করি। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নতুন ও পুরাতন আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান। শ্বশুড় বাড়ির সবাই আমার উপর নির্যাতন করেন।

মতিয়ারা পারভীনের পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মান্নান হোসেন বলেন, মেয়েকে বিয়ে করার পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে মিলন প্রতিনিয়ত অত্যাচার করে। তার মেয়ের ঘরের সমস্ত আসবাব সহ ১লাখ টাকা দামের গরু তিনি দিয়েছেন এবং প্রতিমাসে চাউল পর্যন্ত তিনি পাঠান।


আরও পড়ুন


তিনি আরো বলেন মিলন কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মামলা করেছে। নেশাগ্রস্থ মিলন বিভিন্ন ধরনের অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তিনি সুবিচার কামনা করেন।

কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: