খারকিভের পাইকারি বাজার এখন ধ্বংসস্তূপ

- Advertisement -

ইউক্রেনের খারকিভ শহরের বৃহত্তম পাইকারি বাজারের একটি বারাভাসাভা। একের পর এক বোমার আঘাতে এটি এখন ধ্বংসস্তূপ ও ছাইয়ে পরিণত হয়েছে।

বৃহত্তর বাজারটিতে এখন কোনো মানুষ নেই। লোহার শেডগুলো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। রাশিয়ান সৈন্যরা খারকিভ শহরে নেই। ইউক্রেনীয়রা তাদের সীমান্তে পাঠিয়ে দিয়েছে।

ইউক্রেনীয়রা সৈন্যরা রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। সম্মুখযুদ্ধে হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এই যুদ্ধ আর সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন নাগরিকরাও যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।
একসময় ১৫ লাখ মানুষের বাস হলেও এখন এই শহরে কোনো মানুষ নেই।

এদিকে খারকিভ শহরের হলি ট্রিনিটি চার্চের সামনে খাবারের মানুষের দীর্ঘ লাইন এখন প্রতিদিনের চিত্র। একবেলা খাবার পেতে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে অনেকে ভিড় করছেন ওই চার্চের সামনে। পুরো শহরে গুটি কয়েক খাবারের দোকান খোলা থাকলেও অর্থের অভাবে তা কেনার সাধ্য নেই সাধারণ মানুষের। অনেকেই শহর ছেড়ে গেলেও জন্মস্থানের মায়া ছাড়তে না পারায় অনেকে আবার থেকে গেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত এই নগরীতে।

স্থানীয় এক তরুণী বলেন, আমাদের শহরটি আর আগের মতো নেই। যে দিকেই যাই শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। তবে আমাদের সেনারা রুশ বাহিনীকে ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক নারী বললেন, আমরা বোমার সঙ্গে বসবাস করছি। ঘরের ভেতরে ও বাইরে সবখানেই ভয়। তবে বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।

অপর একজন বললেন, এমন দুঃসহ সময়ে বেঁচে থাকার জন্য খারকিভের বাসিন্দাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আমাদের এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন।

সামরিক অভিযান শুরুর দুই সপ্তাহ পর থেকেই খারকিভের বাসিন্দাদের খাবার দিয়ে যাচ্ছেন চার্চের স্বেচ্ছাসেবীরা। নিজেরাই এসব খাবার সংগ্রহ করে বিতরণ করছেন তারা। প্রায়ই এখান থেকে খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হয় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্যও।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ