গম রফতানি বন্ধের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস

- Advertisement -

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের গম রফতানি বন্ধের সমালোচনা করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দেশে গমের রেকর্ড ফলন হলেও সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কৃষকদেরই ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছে দলটি। এদিকে বিজেপি সরকার বলছে, বিশ্ববাজারে গমের ঘাটতির দিকে নজর রেখেই আপাতত রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসেই জার্মানি সফরে গিয়ে বিশ্বকে খাদ্যশস্যের জোগান দিতে এগিয়ে আসবে ভারত বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে বিশ্ববাজার ধরার কথাও জানায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এতে বাড়তি অর্থ আয়ের সম্ভাবনা দেখছিলেন কৃষক।

শুক্রবার কৃষকদের সেই স্বপ্নে গুড়েবালি দিয়ে বিজেপি সরকার আচমকাই বিদেশে গম রফতানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। মোদি সরকারের দাবি, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে গমের দাম। আর তাই দেশের মানুষকে খাদ্য সুরক্ষা দিতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদেশে আপাতত গম রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে আবারও রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানায় দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে, সরকারের এমন দাবি মানতে নারাজ প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দেশে গমের রেকর্ড ফলন হওয়া সত্ত্বেও ওই সিদ্ধান্তে গম চাষিদের ক্ষতি হলো বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতারা। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম জানান, যেই সময়ে বেশি দামে গম বিক্রি করে বাড়তি টাকা পেত কৃষকরা ঠিক সেই সময়েই এমন সিদ্ধান্ত মূলত কৃষকবিরোধী।

আকস্মিকভাবে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গম রফতানিকারক দেশ ভারত। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর খাদ্যশস্যটির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ ভারতের ওপর নির্ভর করে আসছিল।

কিন্তু দেশের ভেতরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পণ্যটির রফতানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার দিন শেষে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার আগে যেসব ঋণপত্র ইস্যু করা হয়েছিল, কেবল তাদের চালানই জাহাজে উঠবে।

ভারতের পররাষ্ট্র বাণিজ্য পরিদফতর বলছে, কোনো দেশ যদি অনুরোধ করে, তবে আমরা কেবল সেই দেশে গম রফতানি করব। নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা সামাল দিতে ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহায়তা করতে সরকার সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।

এতে এশিয়া ও আফ্রিকার দারিদ্র্যরা বিপাকে পড়ে যাবেন। তাদের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। একটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কোম্পানির মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক সিদ্ধান্ত। দুই-তিন মাস পর রফতানির লাগাম টানা হতে পারে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম। কিন্তু মূল্যস্ফীতির সংখ্যা সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, যে কারণে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে।

বিশ্বে গম উৎপাদনে শীর্ষে ইউক্রেন। তবে, চলমান যুদ্ধের কারণে রফতানি করতে পারছে না দেশটি। এতে বিশ্ব বাজারেই গমের সংকট দেখা দিয়েছে। ভারত দ্বিতীয় গম উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি টন গম উৎপাদন হয় ভারতে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ