গৃহকর্মীদের কষ্ট দেখার কেউ নেই?-স্বপন কুমার

0
21
গৃহকর্মীদের কষ্ট দেখার কেউ নেই?-স্বপন কুমার
গৃহকর্মীদের কষ্ট দেখার কেউ নেই?-স্বপন কুমার

একটা ক্ষুদ্র অনুজীব করোনা। তারই দোর্দন্ড দাপটে গোটা পৃথিবী প্রায় অবরুদ্ধ। এ শুধু মানুষের স্বাস্থ্য ঝুকিই আনেনি, সাথে তার জীবীকার মধ্যেও দিয়েছে হানা। শোনা যাচ্ছে, হুমকির মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি। অর্থনীতির এই আলোচনায় আমার কাজ নাই। আমি বলছিলাম বাংলাদেশের সব থেকে গরীব জেলা কুড়িগ্রামের কিছু শ্রমজীবী মানুষের কথা। যারা এই মফস্বল শহরের বিভিন্ন ছাত্রাবাস, বাসা-বাড়িতে কাজ করে। চলতি কথায় তাদের বলে কাজের বেটি। শিল্পের আপেক্ষিক অগ্রসরতার কারনে এই সেক্টরে কাজ করা মানুষের সংখ্যাটা একটু কম। সারাদেশে জরিপ করলে সংখ্যাটা হয়তো নেহাতই কম হবে না। অথচ এদের কাজের কোন অর্থনৈতিক মুল্য জিডিপিতে ধরা হয় না। নাই শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, না আছে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার। ফলে নাম মাত্র মজুরিতে লাথি-ঝাটা খেয়ে তবু কাজ করে নিতান্ত পেটের দায়ে। কুড়িগ্রাম শহরে গৃহ শ্রমিকের সংখ্যাটা প্রায় হাজার খানেক হবে। এদের বেশির ভাগই থাকে ধরলা বাঁধের রাস্তার ধারে। এদের অবস্থা সব সময় এমন ছিল না।এক কালে এদের জোত- জমি সবই ছিল। তখন হয়তো কত মানুষ তাদের বাড়িতে পাত পেড়ে খেত। সময় গড়ানোর সাথে সাথে এরা নিঃস্ব হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা , দুধকুমার কারো বা ধরলা নদী গিলে খেয়েছে সব। এখন তারা রিক্ত, সরকারী বাঁধের রাস্তায় থাকা সর্বহারা জনগন।


আরও পড়ুন


এইতো মাস ছয়েক আগে সরকার বাঁধের রাস্তা থেকেও তাদের উচ্ছেদ করে, পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা না করেই। তারা কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে সে ভাবনা একান্তই তাদের। রাষ্ট্র,সরকার, সমাজ কিছুই এদের নেই। কেউ কেউ খেয়ে, না খেয়ে যে দুই পয়সা জমিয়েছিল, তাই দিয়ে এবং এনজিও থেকে ধার- দেনা করে বাধের পাশেই অল্প টাকায় খাল পাগাড় কিনে তাতেই একটা দুইটা একচালা ঘর টানিয়ে থাকছে, কেউ বা তার থেকে একটু ভাল। কেউ ভাড়া জমিতে কোন রকমে একটা ছাপড়া টানিয়ে থাকে। কেউ বা তাও না পেরে নিরুপায় হয়ে পাড়া-পড়শির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এ ধাক্কা না সামলাতেই এলো করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা। জীবন – জীবীকা দুইই হলো অনিশ্চিত। দীর্ঘ চার মাস যাবৎ তারা কর্মহীন হয়ে চোখে এখন অন্ধকার দেখছে। এ বেলা খায়তো, ওবেলা নাই। সামনের দিনগুলোতে কেমন করে বাঁচবে, ছেলে মেয়েদের কি হবে, একমাত্র ভগায় জানে। আর কেউ জানে না।

এরই মধ্যে বানের পানি এসে ডুবিয়ে দিয়েছে মাথা গোজার ঠাঁই। একেই বুঝি বলে, মরার উপর খাড়ার ঘা। কেউ কেই ঘরের মধ্যেই টং পেতে কোন মতে পানির উপর ভেসে আছে। কেউ বা রাস্তায় পলিথিনের তাবু টেনে নিদারুন কষ্টে দিন গুজরান করছে। তিন সপ্তাহে দুই দফা বন্যায় নাজেহাল পানি বন্দি মানুষ। কথায় আছে বিপদ যখন আসে চতুর্দিক থেকেই আসে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে বেড়েছে কিস্তির চাপ।

গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে এই মানুষগুলো পানির উপর ভেসে আছে। অথচ এই বিপদের দিনেও তারা পায়নি সরকারি ত্রান সহায়তা। এই দেশ, এই সরকার যেন তাদের নয়। গৃহকর্মী আলেয়া বেগম দুঃখ করে বলছেন,” করোনায় কাজ কেড়ে নিলে, বন্যা এসে ডুবিয়ে দিলে তবু আমাদের দেখার কেউ নেই।” তার কথা হয়তো সত্যিই, না হলে এমন দশা কি তারা সইতো?

লেখক।।
স্বপন কুমার
রাজনৈতিক কর্মী

Leave a Reply