গোসাইরহাটে অবৈধ দখলে থাকা ৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করল এলাকাবাসী

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ৫ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে তা দখলমুক্ত করেছে এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে উপজেলার কয়েকশ’ লোক জড়ো হয়ে ওই সম্পত্তির উপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো হাতুড়ি, শাবাল দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি এ সম্পত্তি দখলের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক জনতা পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। বর্তমান গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হোসাইন এ বিষয়ে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন সরকারি এই সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসন দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় আমজনতা ক্ষিপ্ত হয়।


আরও পড়ুন


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা সদরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত দাসের জঙ্গল গরুরহাট সংলগ্ন মিত্রসেনপট্টি মৌজার ক-তফসিলভুক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার অর্পিত সরকারি সম্পত্তি টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে দখলে রেখেছিল একটি প্রভাবশালী মহল। বর্তমানে ওই সম্পত্তিতে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ চলছিল। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্লিপ্ততা ও অনীহায়, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগশাজসে এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে উক্ত সম্পত্তি দখলে রেখেছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে বাড়ি এমন একজন নামধারী সাংবাদিক ও গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক এক ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র ১০জন নেতাকর্মী মিলে প্রভাবশালী একটি চক্র গোসাইরহাট উপজেলাধীন ৬৪নং জে.এল এর মিত্রসেনপট্টি মৌজার এস.এ ৩৬নং খতিয়ানের ১৭৩ ও ১৭৪ নং দাগের ২৫ শতাংশ জমি দখলের উদ্দেশ্যে কোন এক সময় রাতের আধারে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখে। উক্ত জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা হবে বলে স্থানীয়রা ধারণা করেছেন। টিন দিয়ে ঘিরে রাখা এই সম্পত্তির উপর তারা পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছিল। এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসাইন রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তবে দখলকারীরা বলেছেন, তারা এখানে ২৫ শতাংশ জমি ব্যক্তি মালিক থেকে ক্রয় করেছেন- যা তাদের কাগজপত্র সবই ঠিক আছে এবং জমিটির পর পর কয়েকটি সাব-কবলা দলিলও হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলা ভূমি অফিস, স্থানীয় তহশীল অফিস ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টিন দিয়ে ঘিরে রাখা ক-তফসিলভুক্ত অর্পিত এই সরকারি জায়গায় তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নিদের্শে ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করে ইটের গাঁথুনি করে খোলাবাজার হিসেবে “ওপেন সেলস সেন্টার” নির্মাণ করা হয়েছিল এবং পণ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন- যার নমুনা বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান জানান, সরকারি জমি টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখার বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে এখনো কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসাইন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলছিলাম, তিনি বলেছেন মালিকের নামে জমির মিউটেশন হয়েছে। তাই আমি আর খোঁজখবর নেইনি।

গোসাইরহাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: