গোয়েন্দার জালে ধরা সেই ভয়ংকর নারী প্রতারক

- Advertisement -

এক নারীর পাঁচ নাম। কখনো তিনি কানাডার নাগরিক, কখনো বা অস্ট্রেলিয়ার। আছে বিভিন্ন নামে পাসপোর্টও।

নিজেকে ডিভোর্সি দাবি করে অনলাইন ম্যারেজ মিডিয়ায় দেন বিয়ের বিজ্ঞাপন। তার চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকেই। অসংখ্য পাত্রকে বিপদে ফেলা এ নারী প্রতারককে এক সহযোগীসহ রাজধানী থেকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

তেমনি একজন দেওয়ান মাহমুদুল্লাহ। আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছেন তিনি। অনলাইনে শাদী ডটকম নামক একটি ম্যারেজ মিডিয়ায় তার পরিচয় হয় সুমাইতা ওরফে সুমি নামের ওই নারীর সঙ্গে। সুমি নিজেকে ডিভোর্সি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক দাবি করেন তার কাছে। বিয়ের পর পাত্রকে (দেওয়ান মাহমুদুল্লাহ) স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের প্রস্তাবও দেন ওই নারী।

দেওয়ান মাহমুদকে সুমি জানান, তিনি ছুটি কাটানোর জন্য দেশে এসেছেন। পাত্রী দেশে পাত্র আমেরিকায়। ভার্চুয়ালি বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা হয়। অ্যাংগেইজমেন্টের রিং আর অন্যান্য খরচ বাবদ পাত্র সুমিকে প্রায় তিন লাখ টাকা পাঠান। বিয়ে হবে গুলশানের একটি বাসায়। বিয়ের দিন নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় সুমির কোনো অস্তিত্বই নেই। মানে প্রতারণার শিকার হয়েছেন পাত্র দেওয়ান মাহমুদ। পাত্রের করা মামলায় পাত্রী এখন গোয়েন্দার জালে।

অনলাইনে পাত্রীর ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দেওয়ান মাহমুদ। শুধু কানাডা নয়, অস্ট্রেলিয়ান তিনটি পাসপোর্ট বানিয়েছেন সুমি। একটিতে নাম মেরিনা ফিরোজা, আরেকটিতে সায়মা আসমা, বাকি দুটিতে শারমিন শায়লা ও ফৌজিয়া আলি। কানাডার দুটি পাসপোর্টে তার নাম ফারজানা মেরিনা, আরেকটি বেগম সুমাইতা। সব পাসপোর্টই ভুয়া। ফটোশপের মাধ্যমে বদলে ফেলেছেন নিজের চেহারা। তার আসল নাম শায়লা শারমিন সুমি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে সাংবাদিকদের দেখান কীভাবে কণ্ঠ পরিবর্তন করে কথা বলতেন সুমি। গলায় চাপ দিয়ে নিজের কণ্ঠ পরিবর্তন করে কখনো পাত্রী, আবার কখনো পাত্রীর মা বনে যান তিনি।

পুলিশ বলছে, শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারত ও পাকিস্তানের অন্তত ২০ জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়ারি বিভাগ) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক বিদেশে অবস্থান করছেন এমন ৮ থেকে ১০ জন আছেন, পাকিস্তানের আছে ৮ থেকে ১০ জন, ভারতের আছে ৮ থেকে ১০ জন। এসব ছেলের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। সে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে আমাদের কাছে। তার মোবাইল ফোনে ৮ থেকে ১০টি দেশের পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। কিছু ড্রাইভিং লাইসেন্সও পাওয়া গেছে। এর সবই বানানো এবং সাজানো ও জাল।

অনলাইনে পাত্র-পাত্রী পছন্দ করার পর যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ পুলিশের।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ