গ্যাস বিক্রির সরকারি নির্দেশনা মানছে না মোংলার গ্যাস কারখানা গুলো

মোংলার শিল্পাঞ্চলে রয়েছে দেশের সকল ব্রান্ডের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরন কারখানা। জাহাজে করে তরল গ্যাস এনে প্রক্রিয়াজাতকরন শেষে চাহিদা মতো এখান থেকে সরবরাহ করা হয় পুরো দেশে। কিন্তু এসব প্রক্রিয়াজাত করন প্রতিষ্ঠান গুলো সরকারী নির্দেশনা না মেনে ভোক্তা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সরবরাহ করছে তাদের ডিলারদেরকে। এর ফলে মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস।

বিশ্ব বাজারে দাম কমায় মে মাসে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের(এলপিজি) মূল্য দ্বিতীয় বারের মতো সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন(বিইআরসি)। সংস্থাটি বেসরকারী খাতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মুসকসহ সবোর্চ্চ খুচরা মুল্য ৯০৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৪২ টাকা নির্ধারন করেছে।যা ১ জুন ২০২১ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু সরকারী ওই নির্দেশনা না মেনে মোংলা পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মোংলার দ্বিগরাজ এলাকার এলপিজি গ্যাস বিক্রেতা মোঃ নাসির জানান, মোংলার শিল্পাঞ্চলের ১৪টি গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা তাদের নিদির্ষ্ট ডিলারের মাধ্যমে ৮৫০ টাকা থেকে ৯২০ টাকা মুল্য নির্ধারন করে তাদের কাছে গ্যাস বিক্রি করেন। এর পর তারা খরচ আর কিছু লভ্যাংশ যোগ করে বিক্রি করেন। এতে দাম বেশি পড়লে এর জন্য তারা খুচরা বিক্রেতারা দায়ী নয়।

সমুদ্র পথে তরল গ্যাস আমদানী করে মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ১৪টি গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করন প্রতিষ্ঠান বোতল জাত করে বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ করছে।ওইসব প্রতিষ্ঠানের ডিলারদের মাধ্যমে

জানাযায়, লাফর্সলপিজি তাদের ডিলারদের কাছ থেকে ১২ কেজি এলপিজির (বোতল বাদে) মুল্য নিচ্ছে ৯০০ টাকা,দুবাই বাংলা এলপিজি নিচ্ছে ৮৭০ টাকা,বসুন্ধরা নিচ্ছে ৮৮০ টাকা,ওমেরা নিচ্ছে ৯১০টাকা,যমুনা নিচ্ছে ৯২০ টাকা,সেনা নিচ্ছে ৯২০ টাকা,জি গ্যাস নিচ্ছে ৮৬০ টাকা,গ্রীন নিচ্ছে ৮৬০ টাকা,পেট্রম্যাক্স নিচ্ছে ৯০০ টাকা,প্রমিটা নিচ্ছে ৮৫০ টাকা,ওরিয়ন নিচ্ছে ৮৮০ টাকা,বিএম নিচ্ছে ৮৮০ টাকা,নাভানা নিচ্ছে ৯০০ টাকা,মেক্সিমকো নিচ্ছে ৯২০ টাকা।


আরও পড়ুন>>


বর্তমান বাজার দরের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় বসুন্ধরা এলপিজির মার্কেটিং অফিসার আবজাল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, জুন মাসেও তারা তাদের ডিলারদের কাছে ৮৮০ টাকা মুল্যে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম নিচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত ৮৪২ টাকা দামের চেয়ে কেন বেশি দামে আপনারা ডিলারদের কাছে বিক্রি করছেন ,এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি উনাদের উদ্ধোতন কতৃপক্ষের বিষয়।

এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস ক্রয় করতে না পেরে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। মোংলা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে মাদ্রসা রোড়ের বাসিন্ধা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার গ্যাসের দাম কমানোর পরও, আমরা কম দামে কিনতে পারছিনা গ্যাস। দাম কমার আগেও যে দামে কিনেছি এখনো সেই দামে আমাদের কাছে বিক্রি করছে দোকানীরা। তাহলে দাম কমিয়ে আমাদের কোন উপকারে আসছেনা। তাই সরকার নির্ধারিত মুল্য বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে আরো কঠোর নজরদারী করার দাবি জানান।

এবিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান,সরকার নির্ধারিত মুল্যে গ্যাস বিক্রি কেন করা হচ্ছে না বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সুপারিশ করা হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ

Bengali Bengali English English German German Italian Italian