চাল চোরদের রাজনীতিতে বংশ বিস্তার…

টুটুল রহমান।।

এক মেম্বর সাব ত্রান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষন করেছেন। তার চেহারা ছবি যা দেখলাম তাতে মেম্বর সাবের বিদ্যার দৌড় ক্লাস এইট অবধি কিনা সন্দেহ। তা হোক। আমাদের সাবেক এক প্রধানমন্ত্রীকে এইট পাশ বলে অনেকেই তাচ্ছিল্য করেন। তবুও তারা জন প্রতিনিধি। মানুষের নেতৃত্ব দেন। বিদ্যার চেয়ে বুদ্ধির জোর বেশি।

এরশাদ আমলের শেষের দিকে এলাকায় গরু চোর ধরা পড়লে দেখতাম চেয়ারম্যান-মেম্বর সাবরা থানার বড় বাবুর সাথে গুজুর-গুজুর করে তদবির করে তাদের ছাড়িয়ে আনতেন। বয়স আমার নেহায়েত কম ছিল বুঝতে পারি নাই চেয়ারম্যান কেন গরু চোর থানা থেকে ছাড়াতেন।

বন্যার সময় দেখতাম সরকারি রিলিফের মাল দুর্গতদের কিছুটা দিয়ে বাকিটা মেরে দিতো এই চেয়ারম্যান মেম্বর সাবরা। রাস্তা নির্মানের গম, চাল আত্মসাতের কত কাহিনী যে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে আছে। তারপর বিচার-সালিশ নানা কায়দা কানুন করে এরা কত মানুষের চোখের পানি ঝরিয়েছে। কত মানুষ ইউনিয়ন বোর্ড, পৌরসভা, উপজেলা চত্বরে বসে কেঁদে কেঁদে অভিশাপ দিয়েছে।

ভালো জন প্রতিনিধি কি নেই? আছে অবশ্যই। শুনতাম অমুক চেয়ারম্যান তিন টার্মের চেয়ারম্যান। অমুকের বাবাও তিশ বছর চেয়ারম্যানী করছে। খুব ভালো মানুষ। সুথ-দু:খে মানুষের পাশে পাওয়া যায়। তবে এমন জনপ্রতিনিধি পাওয়া এখন খুবই দু:স্কর।

খালেদার প্রথম আমলে তরুণ কিছু জনপ্রতিনিধি দেখেছি। জিয়া সাফারি পড়ে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। ওমা এরাও তো আদর্শচ্যূত হয়ে পড়েছেন কিছু দিনের মধ্যেই। অনেকেই এলাকায় জুয়া, ফেন্সিডিলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের সাথে জড়িয়ে পড়লেন।

পরে মুজিব কোর্ট গায় চাপিয়ে যারা এলেন তারাও তো কম যায় না। শুধু পাত্র-পাত্রি পাল্টে অবৈধ ব্যবসার হাল ধরলেন মাত্র। এরা আবার বিজয় মেলার নামে জেলায় জেলায় উপজেলায় মাস ব্যাপী হাউজি, জুয়া,যাত্রা নাচের ব্যবস্থা করলেন। টাকাই টাকা। খুন-খারাবি, চাঁদাবাজী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, রাজনীতির নামে মানুষকে ঠ্যাংগানো, অসহায় মানুষদের মান ইজ্জত নিয়ে খেলা করা এদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। তবুও ভোটের সময় দেখবেন এদের বাক্স কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। এই নিপীড়িত, অত্যাচারিত সাধারণ মানুষেরাই তাদের বাক্স ভরে দিয়েছে। কারণ আর তো পথ নাই।

আর গত কয়েকটি নির্বাচনে তো দেখলাম মানুষের আর ভোট দেয়ারই প্রয়োজন পড়ছে না। খামোখা এক কষ্ট। তো এমপি সাবের কাছে কিন্তু এই মেম্বর-চেয়ারম্যান সাবেরা খুব প্রিয় এবং আস্থা ভাজন। এমপি সাব ওই যে বছরে একবার দু‘বার এলাকায় যান। তার তো ঢাকায় নানান ধরনের ব্যবসা। আমদানি-রফতানি। তিনি ব্যাংকের মালিক, বীমার মালিক, টিভির মালিক আরো কত কিছুর তো মালিক তিনি। জনগনের কাছে যাওয়ার তার সময় কোথায়। তার হয়ে এলাকায় এই মেম্বর-চেয়ারম্যান সাবরা রাজনীতি করেন। চেয়ারম্যান-মেম্বর সাবদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা তো রাখতে হয় এমপি সাবদের। দেশ উন্নয়নে নিতে নয় নানা প্রকল্প। সেখান থেকে বুদ্ধির জোরে টাকা পয়সা বের করেন এই মেম্বর চেয়ারম্যান সাবরা।

এখন আবার দেখছি অন্য জিনিস। এই চেয়ারম্যান মেম্বর সাবদের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটির নেতারা আরো বেশি পাওয়ারফুল হয়ে উঠেছেন। হোক সে সরকারি দলের ইউনিয়ন কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক। তাদের দাপটে থানার ওসি, ইউএনও শুনেছি কাঁপতে থাকেন। প্রধান ইঞ্জিনিয়ার সাব টেন্ডার না ডেকেই কাজ ভাগ করে দেন। কাজ শেষ হওযার আগেই চেক ছাড়েন। গ্রামে গেলে মানুষের সাথে কথা বলে এসব শুনি। আর শুনি কমিটির অমুক নেতা মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে। তার সাথে কার গন্ডগোল লাগাচ্ছে। বিচার-সালিশের নামে টাকা নিচ্ছে। চাঁদা তো এখন মামুলি ব্যাপার।

এই চেয়ারম্যান-মেম্বর ও কমিটির নেতা সাবেরা কয়েক দশকে রাজনীতিতে তেলাপোকার মতো বংশ বিস্তার করেছে। এরা যে রাজনীতি করেন, যে দলটিকে ধারণ করেন সে সম্পর্কে এদের বিন্দু মাত্র পড়াশুনা তো দুরে থাক জানাশোনা নাই। রাজনীতিতে আসা মানেই টু-পাইস কামানো। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা। প্রশাসন হাতের মুঠোয় নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করা। জনগণ এখানে মুখ্য নয়। মানবতা, মানুষের কল্যান, মানুষের ভালোর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এসব তাদের কাছে তুচ্ছ। এ কারণে দেশের এই ক্রান্তিকালেও তারা ত্রানের চাল, ১০ টাকা মুল্যের চাল চুরি করছে। মানুষ ছি ছি করছে। বিচার চাইছে। কিন্তু বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এদের বিচার হবে না। এরা বরং ফুলে মালা গলায় পড়ে বেরিয়ে আসবে। তাদের বের করে আনা হবে। কারণ তারা যাদের হয়ে কাজ করেন তারাও তো জনগণকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেই রাজনীতি করেন। তারা তো জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

তারা তো ব্যবসায়ী। তারা করেন লাভ-ক্ষতির হিসাব। এ কারণে এক নির্বাচনের পর আরেক নির্বাচনে দেয়া হলফ নামা খেয়াল করলে দেখবেন কি পরিমান সম্পদের পাহাড় তারা গড়ে তুলেছেন। শুধু জনপ্রতিনিধি কেন বিভিন্ন কমিটির নেতানেত্রীদের সম্পদের খোঁজ নিলে জানবেন রাজনীতি কি যাদুর কাঠি এখন।

না শেখ হাসিনা এই রাজনীতি করেন না। তাই তো প্রথম থেকেই তিনি হুশিয়ার করে দিয়েছেন বলেই এসব নরকীট ধরা পড়ছে একের পর এক। তাঁর ওপর দেশের মানুষের অগাধ আস্থা। কারণ তিনি বলেছেন এদের তিনি এতটুকু ছাড়ও দেবেন না। দেশের মানুষ এখন এদের বিচার দেখার প্রত্যাশায় রয়েছেন।

লেখক:
টুটুল রহমান
সম্পাদক
অর্থনীতি আজকাল

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: