চা বাগানের সাথে সবুজ মাল্টা চাষে রঙিন স্বপ্নে চাষীরা

- Advertisement -

মোঃ রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পঞ্চগড়।।

দীর্ঘ মেয়াদী সমতল ভূমিতে সবুজ চা বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ মাল্টা। সবুজ চা বাগানে মাল্টা চাষ করে রঙিন স্বপ্নে প্রান্তিক চাষীরা। এক চা বাগানে হরেকরকম আবাদে নিরব অর্থ বিপ্লবে বদলে গেছে স্থানীয় কৃষকদের জীবনচিত্র। চা বাগানের পাশাপাশি বাড়তি খরচ না থাকায় মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন পঞ্চগড় জেলার প্রান্তিক চাষীরা। এতে করে চায়ের পাশাপাশি দ্বিগুন আয় করছেন । সবুজ চা বাগানে সমন্বিত ফল চাষ করে একদিকে যেমন পুষ্টি আরোহণ করতে পারছেন অন্যদিকে প্রচুর অর্থনৈতিক ভাবে লাভমান হচ্ছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলার প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে মাল্টা। আবহাওয়া মাটি এবং পরিমিত বৃষ্টিপাতের কারণে এ উপজেলায় বারি-১ জাতের মাল্টার চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। চা-সহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে সমন্বিত ফসল হিসেবে মাল্টার বাগান করছে চাষিরা। চা বাগানে প্রয়োগকৃত সার-কীটনাশকেই একাধিক আবাদ সহজ হওয়ায় সমতল ভূমির বিস্তীর্ণ চা বাগানগুলোতে মালটা চাষে মনোযোগ দিয়েছেন চাষিরা।

উপজেলা বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের রওশনপুর এলাকার ফেরদৌস কামালের ছেলে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম সুষম দুই একর জমিতে মাল্টা চাষ করে সফল চাষীতে পরিণত হয়ে উঠেছে। করোনাকালীন সময়ে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে বাবার ২ একর জমিতে ২শ বারি-১ জাতের মালটা চাষ শুরু করে। বাগান ঘুরে দেখা যায়, মাত্র দেড় বছরে প্রতিটি গাছেই ধরেছে প্রচুর পরিমাণে মাল্টা।

মাল্টা চাষী সাদেকুল ইসলাম সুষম জানায়, করোনা কালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া বাড়িতে এসে মাল্টা চাষের পরিকল্পনা করে বাবার দুই একর জমিতে চারা রোপন করি। মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে প্রত্যেক গাছেই প্রচুর পরিমানে ফল ধরেছে। বিশেষ করে চা বাগানে মাল্টা চাষ করলে আলাদা খরচ করতে হয় না। চা বাগানে যে সব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তা দিয়েই মাল্টা উৎপাদন করা যায়। বাগান থেকে ১৫০-২০০ টাকা কেজি দরে মাল্টা বিক্রি হচ্ছে।

সুষম আরও জানান, দুই একর চা বাগান থেকে চা পাতা বিক্রি হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। এবার চায়ের পাশাপাশি আরও দুই লাখ টাকার মালটাও বিক্রি করবেন বলে আশা তার। এ এলাকায় শুধু নয়, তার মতো অন্যান্য চাষিরাও এখন চা বাগানে মালটা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন । চা বাগানে অভিনব মাল্টা চাষ দেখতে প্রতিনিয়ত আসছে পর্যটকরা বাগান ঘুরে ঘুরে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারাও ।

চাষীরা বলছেন, চা বাগানে মালটা চাষ করলে খরচ কম হয়। চা বাগানে যে সার কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তা দিয়েই মাল্টা উৎপাদন করা যায়। তাদের দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অন্য চাষিরাও।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি সজীবতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব-উষ্ণমন্ডলীয় এলাকায় বেশি চাষ হচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এ উপজেলায় মাল্টা চাষ হচ্ছে। সমতল ভূমিতে চায়ের পাশাপাশি মালটা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে । চা বাগানে চায়ের পাশাপাশি মাল্টা চাষ কৃষকদের দ্বিগুণ আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। মাল্টা চাষে আগ্রহী চাষিদের সকল প্রকার সহায়তা দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ