জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত শরীয়তপুর জেলা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক স্মৃতি বিজড়িত রয়েছে শরীয়তপুর জেলায়। শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী, বিনোদপুর কাচারীকান্দি সিরাজ সরদারের বাড়ি, নড়িয়া উপজেলার পোড়াগাছা গ্রামে ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলার বাড়ি, ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদরে পাইলট হাইস্কুল মাঠ ও ডামুড্যাতে আগমনের স্মৃতি আজো ভুলতে পারেনি শরীয়তপুরের মানুষ। বঙ্গবন্ধুর সেই সব স্মৃতির আংশিক তুলে ধরা হল।

বঙ্গবন্ধুর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন সেকালে মাদারীপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা। ডাঃ গোলাম মাওলার গ্রামের বাড়ি বর্তমান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পোড়াগাছা গ্রামে। ১৯৫৫খ্রি: আবু হোসেন সরকারের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকারের স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন, সমবায় ও রেজিস্ট্রেশন দফতরের মন্ত্রী ছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকার গিয়াস উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি দ্বিতীয় বার হজ্ব করতে গিয়ে মক্কা শরীফে মৃত্যু বরণ করেন। ফলে নড়িয়া আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে উপ-নিার্বচনে ১৯৫৭খ্রি: আওয়ামী লীগ ডা: গোলাম মাওলাকে মনোনীত করে।

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, এ নির্বাচনী প্রচারণায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নড়িয়াতে আসেন এবং ডাঃ গোলাম মাওলার বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন। এ উপ-নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ডাঃ গোলাম মাওলা নির্বাচিত হন। ১৮৭২ সালে চালু হয় শরীয়তপু সদর উপজেলার চিকন্দী দেওয়ানী আদালত।

চিকন্দী দেওয়ানী আদালতের প্রবীণ আইনজীবী ও চিকন্দী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ হাতেম আলী মিয়া জানান, বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ১৯৫৯-৬০ সালের দিকে মাদারীপুর মহকুমা (বর্তমান শরীয়তপুর জেলা) এর চিকন্দী দেওয়ানী আদালতে সেরেস্তাদার পদে চাকুরি করতেন বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর বাসা ছিলো মাদারীপুর। মাদারীপুর থেকে তিনি পানসি নৌকা, লঞ্চ ও স্টীমারে চিকন্দী যাতায়াত করতেন। পিতার সাথে বঙ্গবন্ধু একাধিকবার চিকন্দী এসছেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মোতাহার উদ্দিন এবং বিনোদপুর কাচারীকান্দি গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী হাসেম সরদার জানান, চিকন্দী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত বিনোদপুর ইউনিয়ন।


আরও পড়ুন>>


বিনোদপুরের কাচারিকান্দি গ্রামে বাড়ি সিরাজ উদ্দিন সরদারের। সিরাজ উদ্দিন সরদার ১৯৪৬খ্রি: কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য ছিলেন। উক্ত কলেজে অধ্যয়নকালে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সিরাজ উদ্দিন সরদারের সখ্য গড়ে ওঠে। ১৯৫৪ খ্রি: যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের আগে এবং ১৯৬০/৬১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিনোদপুর আসেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কইমাছ খুব পছন্দ করতেন। সিরাজ উদ্দিন সরদারের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজে খাবারের অন্যান্য উপকরণের সাথে কইমাছ ভাজা ও রান্না খেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রশংসা করেছিলেন বলে তারা জানান।

এছাড়াও সেকালে কলে মাড়াই করা আখের গুড় খাওয়ার স্মতিচারণ করেন তারা। শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক অনল কুমার দে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ছয় দফা ঘোষণা করেন। তাঁর দল আওয়ামী লীগই দেশব্যাপি জোরেশোরে ছয় দফার প্রচার কার্য চালাতে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তাঁর ছয় দফা প্রচারের লক্ষ্যে শরীয়তপুরের ডামুড্যা ও ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক জাতীয় প্রাদেশিক নির্বাচনের প্রচারণার জন্য বঙ্গবন্ধু ভেদরগঞ্জ আসেন।

অনল কুমার দে বলেন, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক জাতীয় প্রাদেশিক নির্বাচনের প্রচারণার জন্য বঙ্গবন্ধু যখন ভেদরগঞ্জ আসেন, তখন তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। কৌতুহলী অনল কুমার দে তখন তাঁর পিতার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুকে দেখার জন্য ভেদরগঞ্জ গিয়েছিলেন। সারাদিন অপেক্ষা করার পর দেখতে পান একটি লঞ্চযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভেদরগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে এসে পৌঁছান এবং সেখানে তিনি বক্তৃতা করেন। তখন হাজার হাজার লোক তার বক্তৃতা শুনার জন্য ভেদরগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে জড়ো হয়।

অনল কুমার দে আরো জানান, চাঁদপুর কলেজের তৎকালীন ছাত্র নেতা, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের অধিবাসী মরহুম আবদুল হাই মাস্টার (ভেদরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে লঞ্চযোগে ভেদরগঞ্জ নিয়ে আসেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ