জাতীয় চেতনা সৃষ্টি ও মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ বাঙালিকে উজ্জীবীত করতে পারেননি: খুবি উপাচার্য

0
22
জাতীয় চেতনা সৃষ্টি ও মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ বাঙালিকে উজ্জীবীত করতে পারেননি: খুবি উপাচার্য
জাতীয় চেতনা সৃষ্টি ও মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ বাঙালিকে উজ্জীবীত করতে পারেননি: খুবি উপাচার্য

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে(খুবি) সকাল ১১ টায় শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আজকের বাংলাদেশে বসে স্বাধীনতা কি, মুক্তিযুদ্ধ কি, অভাব কি, শোষণ কি, দুঃশাসন কি তা বোঝা যাবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন বা তার আগে জন্মে ছিলেন তারাই সেই দুঃসহ দিনের কথা স্মরণ করতে পারেন। স্বজন ও সম্পদ হারানোর বেদনা অনুভব করতে পারেন। আজ বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী পালনকালে আমরা বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও জাগরণ দেখতে পাচ্ছি। প্রকৃত পক্ষে এই দেশকে নিয়ে এমনই স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় চেতনা সৃষ্টি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষমতার নিরিখে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর মতো কেউ আর বাঙালিকে উজ্জীবীত করতে পারেননি।


আরও পড়ুন


পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেন এ দেশ আমাদের নয়। বাঙালির ভাষা, কৃষ্টি, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতেই পৃথক রাষ্ট্র দরকার। ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যে সেই চেতনা বদ্ধমূল হয় এবং তাঁর মানস পটে বাঙালি বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের স্বপ্ন গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। প্রকৃতপক্ষে আমরা দেখতে পাই বঙ্গবন্ধুর মতো আর কেউ এই দেশের মানুষ ও মাটিকে এতো ভালো বাসেননি। অনেকেই হয়তো শিক্ষায়, জ্ঞানে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। কিন্তু একটি জাতির মুক্তির জন্য এতো ত্যাগ, এতো নির্যাতন, এতো দুর্ভোগ আর কেউ পোহাননি।

তিনি আরও বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সৃষ্টি। ভাষা-আন্দোলন বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে হয়নি। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অসম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশই ছিলো তার মূল ভাবনা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে স্বাধীকার, দুঃশাসন থেকে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের চেতনা জাগ্রত হয়। ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ বাঙালির আত্মদান ও লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের গৌরব কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। যারা কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের অবমাননা করেছে তারা বাঙালির সংস্কৃতি, কৃষ্টি, স্বাধীনতা ও অসম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধপন্থী। তারা এদেশে বিজাতীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়। সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয় এমন এক জায়গা যেখানে সত্য চর্চা করা হয়, জ্ঞান চর্চা ও সৃজন করা হয়। জ্ঞানের নতুন নতুন শাখার উন্মেষ ঘটে। চারুকলার একটি শাখা ভাস্কর্য।

এটা পৃথিবীর বহু দেশে চর্চা হয়। ইসলামের ইতিহাসে চিত্রকলার অবদান রয়েছে। তিনি বলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই যেখানে অব্যাহভাবে জ্ঞান চর্চা ও সৃজন হবে। সবাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য নিজেদেরকে নিবেদিত করবেন। কেননা নতুন নতুন জ্ঞান সৃজনই একটি দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দেশ ও জাতির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি সবার প্রতি বঙ্গবন্ধুর অাদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন, লালন ও পালনের অাহবান জানান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, আইন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন, প্রফেসর ড. মোঃ সারওয়ার জাহান, প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল জব্বার, প্রফেসর ড. কাজী সাইফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, মোঃ হাসান হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, পুণম চক্রবর্তী।

এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি উপস্থিত ও অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

Leave a Reply