জ্বালানী ও মাটির ব্যবহার ছাড়াই, বীরগঞ্জে নিউ ইকো ব্রিক্স ইট কারখানা

জ্বালানী ও মাটির ব্যবহার ছাড়াই, বীরগঞ্জে নিউ ইকো ব্রিক্স ইট কারখানা
জ্বালানী ও মাটির ব্যবহার ছাড়াই, বীরগঞ্জে নিউ ইকো ব্রিক্স ইট কারখানা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৪নং পাল্টাপুর ইউনিয়নের কুড়িটিয়া হাট সংলগ্ন আবাদি কৃষি জমির পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তিতে ফ্লাই অ্যাস দিয়ে অত্যাধুনিক ইট তৈরির কারখানা। জ্বালানি ও মাটির ব্যবহার ছাড়াই ইট তৈরিতে ব্যবহৃত করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার নুড়ি পাথর, পাথরের গুড়া (ডাষ্ট), বালু, সিমেন্টসহ কিছু উপকরণ। শ্রমিকরা কারখানার পাশে স্তুব করা বালু ও পাথর এনে হপারে ঢেলে দেয়। পরে মিকচার মেশিনে অন্যান্য উপকরণ মিশ্রিত করে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে চায়নার প্রযুক্তি হাইড্রলিক কিউটিওয়াই ৪২০সি ভাইব্রো মাল্টি ক্যাভিটি মোল্ডিং মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে এই ইট। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সারি সারি ভাবে মেশিন থেকে বেড়িয়ে আসছে ইট। দৈনিক তৈরি করা কাঁচা ইটগুলো শ্রমিকরা কারখানার পাশেই সংরক্ষণ করে বিক্রির জন্য রেখেছেন। সোমবার সরেজমিনে পাল্টাপুর কুড়িটাকিয়ার বাজারে পৌঁছালে এই এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা মো: তোফাজ্জল হোসেন রাজা জানান, সম্প্রতি নোয়াখালী এলাকায় পরিবেশ বান্ধব ইটের কারখানা দেখার পর উদ্ভুদ্ধ হয়ে মাস খানিক আগে প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে এই উপজেলায় সর্বপ্রথম নিউ ইকো ব্রিক্স (এন ই বি) ইট উৎপাদন শুরু করা হয় এবং বাংলাদেশের মধ্যে এটি ২৩তম স্থাপনা। এই মেশিনের মাধ্যমে ইট ছাড়াও চাহিদা মোতাবেক পার্কিং টাইল্স ও ব্লক তৈরি করা যায়।


আরও পড়ুন


তিনি আরোও জানান, সল্প জনবলে এই মেশিন দিয়ে প্রতি মিনিটে ৪২টি ইট তৈরি হয় ও গত একমাসে ১ লাখ নিউ ইকো ব্রিক্সের ইটের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ইট বাজারজাত হয়েছে এবং গুনগত মান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতাসাধারণের চাহিদা মোতাবেক অর্ডার আসছে। বর্তমানে লাল ইট ৮ হাজার ও সাদা রংয়ের ইট ৭ হাজার টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কারখানায় দ্বায়িত্বে থাকা উদ্যোক্তার ছেলে মোঃ তারিফ হোসেন মুন্নার সাথে কথা হলে তিনি পিতার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সকাল হতে রাত পর্যন্ত ২ শিপটে ১০/১২ জন শ্রমিক দিয়ে এই ইট তৈরির কাজ চলছে। পর্যাপ্ত ট্রে না থাকায় আপাতত কমসংখ্যক ইট তৈরি করা হলেও ট্রে সল্পতা দূর করা হলে এই কজন শ্রমিকই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০/২৫ হাজার ইট তৈরি করতে পারবে। তাই প্রাকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আবাদি জমির উর্বর মাটি আর কাঠ- কয়লা পোড়ানো ইট বর্জন করে পরিবেশবান্ধব নিউ ইকো ব্রিক্সের ইট ক্রয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি এবং এর পাশাপাশি সরকারিভাবে বিশেষ সহযোগিতা পেলে ব্যবসায়ীক সফলতা সহ পরিবেশবান্ধব ইট কারখানায় অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তা ও নিউ ইকো ব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন রাজা।

Leave a Reply