টেক্সাসে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়ে সর্বশেষ যা জানালো স্বজনরা

0
8
টেক্সাসে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়ে সর্বশেষ যা জানালো স্বজনরা
টেক্সাসে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়ে সর্বশেষ যা জানালো স্বজনরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাংলাদেশের একই পরিবারের ৬ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পাবনার দোহারপাড়ায় নিহত আলতাফুন্নেছার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আর এটি আত্মহত্যার পর হত্যাকাণ্ড নয় দাবি করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান স্বজনরা।

সোমবার সকালে টেক্সাসে বৃদ্ধা আলতাফুন্নেছা(৭৭), জামাতা তৌহিদুল ইসলাম(৫৬), মেয়ে আইরিন ইসলাম নীলা(৫৪) এবং তৌহিদ-নীলা দম্পতির ৩ সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।


আরও পড়ুন


নিহতদের স্বজনরা জানান, ঢাকার ছেলে আমেরিকা প্রবাসী তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে পাবনা শহরতলীর দোহারপাড়া গ্রামের মরহুম আবুল মোসলেম এর মেয়ে আইরিন ইসলাম নীলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই নীলা স্বামীর সঙ্গে পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। তাদের তিন সন্তান তানভীর তাওহীদ, ফারবিন তাওহীদ এবং ফারহান তাওহীদকে নিয়ে সুখের শান্তিতে বসবাস করছিলেন। আড়াই বছর আগে তৌহিদ-নীলা দম্পত্তি দেশে আসেন এবং তারা আবার ফিরে যাওয়ার সময় তৌহিদের শাশুড়ি অর্থাৎ নীলার মা আলতাফুন্নেছা তাদের সঙ্গে টেক্সাসে যান। ১ এপ্রিল আলতাফুননেছার পাবনায় ফেরার কথা ছিল। কিন্ত করোনার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে পরবর্তিতে ৭ এপ্রিল দেশে আসার দিন ঠিক হয়। কিন্তু তার আগেই নৃশংসভাবে খুনের শিকার হন মেয়ে জামাতা ও নাতি নাতনীর সঙ্গে আলতাফুন্নেছা নিজেও।

নিহত আলতাফুনেচ্ছার ছেলে ও নীলার ভাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ হিরোন জানান, গত শুক্রবার রাতে তার মা’র সাথে মোবাইল ফোনে তিনিসহ বাড়ির অন্যদের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। মা দেশে আসার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। ১ এপ্রিল তার পাবনায় ফেরারও কথা ছিল। কিন্ত করোনার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়ে পরবর্তিতে ৭ এপ্রিল দেশে আসার দিন ঠিক হয়। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেননা-এ ধরণের ঘটনা কীভাবে হলো?

তিনি আরও বলেন, তার বোনের দু’সন্তান অন্যদের গুলি করে মেরে তারা আত্মহত্যা করেছে বলে মিডিয়ায় যে প্রচারণা হয়েছে-তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কেননা নীলা পাবনায় তাদের পরিবারের সবকিছু দেখভাল করতেন। তার সন্তানদের এ ধরণের কোন সমস্যা থাকলে তারা জানতে পারতেন।

আলতাফুন্নেছার ভাই এবং নীলার মামা আব্দুল হান্নান বলেন, এটি আত্মহত্যার পর হত্যাকাণ্ড নয়। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তিনি। নিহতের পরিবার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে। অন্তত তারা শেষবারের মত স্বজনদের মুখটা দেখতে যেন পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সোমবার সকালে পাবনার দোহার পাড়ার মরহুম আবুল মোসলেম এর স্ত্রী বৃদ্ধা আলতাফুন্নেছা(৭৭), জামাতা তৌহিদুল ইসলাম(৫৬), মেয়ে আইরিন ইসলাম নীলা(৫৪) এবং তৌহিদ-নীলা দম্পতির ৩ সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত খবরে বলা হয়, সেখানকার পুলিশের ধারণা, তৌহিদ-নীলা দম্পত্তির ২ কিশোর ছেলে অন্যদের গুলি করে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেন। তারা মানসিক বিষাদগ্রস্ত ছিল বলেও ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply