ট্রাম্প-পুতিনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

- Advertisement -

ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির রাজধানী কিয়েভ, খারকিভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গোলা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।

আগ্রাসনের অষ্টম দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পুরো ইউক্রেন এমনকি দেশটির রাজধানী কিয়েভ দখল করতে পারেনি রুশ সেনারা। এরই মধ্যে ন্যাটো, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এই যুদ্ধের মূল কারিগর ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোলটন।

শুক্রবার( ৪ মার্চ) ইউক্রেনের রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সাক্ষাতকারে বোলটন বলেন, পুতিন অপেক্ষা করেছেন যে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হবেন এবং ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে আসবেন। তবে ওই আলোচনায় বোলটন বেশিরভাগ সময়েই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেছেন। সাক্ষাতকারের একদম শেষের দিকে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক মাইকেল ডাফি তাকে জিজ্ঞাসা করেন ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কতটা অগ্রসর হয়েছিলেন ট্রাম্প।

এমন প্রশ্নের উত্তরে বোল্টন বলেন, ;তিনি(ট্রাম্প) অনেক খানি পা ফেলেছিলেন। তবে সেই সময় ন্যাটো থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেননি।’ বোলটন আরও বলেন, যদি ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতেন তবে ন্যাটোর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতেন। আমি মনে করি পুতিন সেই অপেক্ষায় ছিলেন।

ট্রাম্প তার শাসন আমলে ন্যাটোকে বোঝা হিসেবে মনে করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি জোটের প্রতিরক্ষা বিষয়ে তাদের জন্যে ধার্য অর্থের পুরোটা দিচ্ছে না। বোল্টন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের প্রশাসনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাকে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করা হয়। মাত্র দেড় বছরের মাথায় ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইউক্রেনকে কিভাবে দেখা হত এমন প্রশ্নের জবাবে বোলটন ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, আমি মনে করি প্রক্রিয়াটি খুব খারাপ ছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে ভূ-কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা কঠিন ছিল। তার কাছে প্রধান আগ্রহের বিষয় ছিল হিলারি ক্লিন্টনের কম্পিউটার সার্ভার খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অদূরদর্শীতার কারণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পক্ষের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, অথচ ইউক্রেন আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রাষ্ট্র।

বোলটন বলেন, ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল ওবামা প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইউক্রেন ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসায়িক স্বার্থে অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়েছিলেন জো. বাইডেন। ওই সময় জেলেনস্কিকে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের চাপ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর তাকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেয় তৎকালীন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ।

সাক্ষাতকারে বোলটন জানান, ওই সময় প্রাক্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার ট্রাম্পের আচরণে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বোলটন বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি আমাদের ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার, অথচ ট্রাম্প যা করলেন তাতে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম আমরা।”

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ