ডিসি হিল খোলার আশ্বাস

- Advertisement -

শুক্রবার ছুটির দিনের দুপুর। নগরের ডিসি হিলের প্রবেশ ফটকে জটলা পাকিয়েছে একদল মানুষ। তাদের পোশাক আশাকে বেড়ানোর আমেজ থাকলেও, মুখে ছিল রাজ্যের বিরক্তি। সামনে গিয়ে কথা বলতেই এর কারণ জানা গেল। নগরের আন্দরকিল্লার অনীক সাহা এসেছিলেন পরিবার পরিজন নিয়ে। তিনি বললেন, করোনার পর সবাই মিলে একটু ভালো সময় কাটাতে ডিসি হিলে বেড়াতে এসেছিলাম। অথচ আসার পর জানলাম এখানে এখনো সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত। তাই গেট থেকেই ফিরে যাচ্ছি। সবকিছু খুলে দেওয়ার পরও নগরবাসীর প্রিয় এই বিনোদন স্পট কেন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে না এই প্রশ্ন তার।

এই পাহাড়ের চূড়ায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরকারি বাসভবন থাকলেও এটিকেই ধরা হয় চট্টগ্রাম শহরের দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি হিসেবে। এর চারদিকের সবুজ আর নির্মল পরিবেশে বরাবরই আকৃষ্ট হয় নগরবাসী। তা ছাড়া বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানসহ নানা সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবেও ডিসি হিলের নাম আসে সবার আগে।

অথচ ২০১৭ সাল থেকে হুট করে পাল্টে গেল সব। তখনকার জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া হলো বাংলা বর্ষবরণ ছাড়া আর সব ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন। তারই ধারাবাহিকতায় এখানে সীমিত করা হয়েছিল সাধারণের প্রবেশ ও চলাচলও। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক তখন এর প্রতিবাদে তখন রাস্তায় নেমেও লাভ হয়নি।

এটি নিয়ে যখন দীর্ঘদিনের এত ক্ষোভ আর অসন্তোষ জমে আছে তখন নগরবাসীকে সুখবর দিলেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। নগরবাসীর দাবির কথা বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামের একদল সংস্কৃতিকর্মীকে বৃহস্পতিবার এটি খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

প্রায় চার বছর ধরে নগরের অন্যতম এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এভাবে বন্ধ থাকাটা সমীচীন নয় বলে জানালেন তিনি। বলেন, আমরা চিন্তা ভাবনা করছি যে এটি আবার কীভাবে সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া যায়। আমাদের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে করোনার পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক হতেই যাতে এটি সব ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত করা যায়। এখন আপাতত একটা নির্দিষ্ট সময় এটিকে মানুষের হাঁটা চলা আর ব্যায়ামের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে জানতে চাইলে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের সদস্যসচিব ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, আমরা জেলা প্রশাসককে সিআরবি রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি দিতে গিয়ে পরে ডিসি হিল খুলে দেওয়ার দাবি জানাই। এ সময় তিনি এটি আবারও খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আমাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একটি বিশেষ দিন দেখে যেমন-বিজয় দিবসে হয়তো এখানে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেবেন।

জেলা প্রশাসনের এমন আশ্বাসে স্বস্তি ফিরেছে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ও সচেতন নাগরিক মহলে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ক মহসীন কাজী বলেন, ডিসি হিল আবারও খুলে দিলে বর্তমান ডিসি আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আমার তার ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানাই।

একুশে পদকজয়ী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, আমরা এমন ডিসিকেই চাই যিনি নগরের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দেবেন। তবে তাড়াহুড়োর কিছু নেই। আমরা চাই সবকিছু ধীরে ধীরে খোলা হোক।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ