ঢালিউডের নতুন ভিলেন

- Advertisement -

বাংলা সিনেমায় অনেক দিন ধরে সংকট চলছে। এই সংকটটা কীসের? কেউ বলছেন, গল্পের আবার কেউ বলছেন নির্মাতার। আর অভিনেতা-অভিনেত্রীর সংকট তো আছেই। বিশেষ করে খল অভিনেতার।

যদি একটু পেছনে তাকাই। গোলাম মুস্তাফা, খলিল, জাম্বু, রাজীব থেকে শুরু করে হুমায়ুন ফরীদি, এটিএম শামসুজ্জামন, মিজু আহমেদ। খল অভিনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ঢালিউডে। তবে, খল অভিনেতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি সিনেমা করেছেন মিশা সওদাগর।

ঢালিউডে ভিলেন সংকট। কথাটি একদম ফেলে দেয়ার মতো নয়। যদিও নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে অভিনেতা-অভিনেত্রী খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছিল চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। কিন্তু শুরুতেই টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলে বন্ধ হয়ে যায় সে আয়োজন। তারপর মুখে বুলি আওড়ালেও বাস্তবে আর হয়নি নতুন মুখের সন্ধান।

বেশ বড় একটা সময়ে হাতে গোনা কয়েকজনকেই ঘুরেফিরে দেখা গেছে খল চরিত্রে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। দেখা মিলেছে বেশ কয়েকজন গুণী অভিনেতার। যারা খল চরিত্রে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তাসকিন রহমান: ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় প্রথমবার খল চরিত্রে দেখা যায় তাসকিনকে। শুরুতেই বাজিমাত করেন তাসকিন। তার অভিনয় নাড়িয়ে দেন দর্শকহৃদয়। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তাসকিন। শিশুশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একাধিক নাটকে অভিনয় করেন। তাসকিন সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন ১৯৯৫ সালে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে ‘মৃত্যুপুরী’, ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘সুলতান: দ্য সেভিয়র’ সিনেমায় অভিনয় করেন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাসকিন অভিনীত ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘ক্যাসিনো’ ও ‘মিশন এক্সট্রিম-২’ সিনেমাগুলো।

রাশেদ মামুন অপু: ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় এ অভিনেতা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ভিলেন হিসেবে প্রথমবার তিনি পর্দায় আসেন ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমায়। ‘জানোয়ার’, ‘কসাই’, ‘অমানুষ’ সিনেমা তার নেতিবাচক চরিত্র দর্শক গ্রহণ করেছে। সবশেষ ‘পরাণ’ সিনেমায় তার সংলাপ দর্শকের মুখে মুখে। নেতিবাচক চরিত্রে অপু তার বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন। আর সেটাই দর্শক লুফে নিয়েছে। সিনে সমালোচকরা মনে করছেন, খল অভিনেতা হিসেবে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে পারেন রাশেদ মামুন অপু।

এল আর খান সীমান্ত: ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমায় খল চরিত্রে আরও একজন নজর কাড়েন। তার নাম এল আর খান সীমান্ত। মডেলিং থেকে সিনেমায় আসেন সীমান্ত। ভিলেন হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। সে ইচ্ছা অনুযায়ী পথ চলছেন। সবশেষ ‘সাইকো’ সিনেমায় দর্শক তাকে খল অভিনেতা হিসেবে দেখতে পেয়েছে। মিশা সওদাগরের পর এ সময়ের ব্যস্ত খল অভিনেতা সীমান্ত। ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘ক্যাসিনো’, ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’, ‘রিভেঞ্জ’, ‘মাসুদ রানা’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। নির্মাতাদের অনেকের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন সীমান্ত। তাকে নিয়েও ভাবতে শুরু করেছেন বেশ কয়েকজন নির্মাতা। ধারণা করা হচ্ছে, মিশা সওদাগরদের উত্তরসূরি হতে পারেন সীমান্ত।

রোজি সিদ্দিকী: নারী খল অভিনেতাদের সংখ্যাও ঢালিউডে কম নয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে গল্পের পরিবর্তন আসায় নারী ভিলেন চরিত্র হারিয়েই গেছে পর্দা থেকে। একটা সময় রওশন জামিল, মায়া হাজারিকা, সুমিতা দেবী, রিনা খান কিংবা শবনম পারভীন ছিলেন পর্দার আতঙ্ক। অনেক দিন পর নারী ভিলেন দেখল বাংলা সিনেমার দর্শক। ‘পরাণ’ ও ‘সাইকো’ সিনেমায় রোজি সিদ্দিকীর অভিনয় দাগ কেটেছে দর্শকহৃদয়ে। খল অভিনেত্রী হিসেবে আরও অনেক সিনেমায় কাজ করতে চান রোজি।

এ ছাড়া সুমন আনোয়ারও খল অভিনেতা হিসেবে আলোচনায় আছেন। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ও ‘সাত নাম্বার ফ্লোর’সহ বেশ কয়েকটি কাজে তার নেতিবাচক চরিত্র তাকে আলোচিত করেছে। ফারহান খান রিও ছাড়াও অনেকের নাম আছে। সবাই যদি নিয়মিত কাজ করতে পারেন, তাহলে ঢালিউডের ভিলেন সংকট–এ কথাটি আর শুনতে হবে না। আর দর্শকও প্রতি সিনেমায় একজন ভিলেন দেখে বিরক্ত হবেন না। এমন আশা করা যেতেই পারে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ