তরুণীকে হত্যা: এক ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, অন্যজনের যাবজ্জীবন

- Advertisement -

ফরিদপুরে এক নারীর গায়ে আগুন ধরিয়ে ও মারধর করে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও দুইজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্রদীপ কুমার রায় এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন মো. সাহাবুদ্দিন খান (৩৫)। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সুমন খানকে (৩২)। তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলাইরচর গ্রামের সেকেন্দার খানের ছেলে।

নিহত নারীর নাম মনিরা বেগম (১৮)। তিনিও ধলাইরচর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার কবীর মোল্যার মেয়ে মনিরা খানমের সাথে প্রতিবেশী মো. সাহাবুদ্দিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তী সময়ে আসামী সাহাবুদ্দিন মেয়ের বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং মেয়েকে তার মামার বাড়ি বাগেরহাট পাঠিয়ে দেয়। এতে আসামি সাহাবুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরা খানমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাগেরহাট থেকে নিয়ে আসে। পরে সাদা কাগজে সই নিয়ে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরির মাধ্যমে বিয়ে মনিরাকে বিয়ে করে।

বিয়ের ১ মাস পরে মনিরা খানম কাবিন নামা দেখতে চাইলে আসামি সাহাবুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে হত্যার উদ্দেশে মনিরা খানমকে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় শাহাবুদ্দিন। এসময় মুনিরা খানমকে গায়ে আগুন থাকা অবস্থায় লাঠি দয়ে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আসামীর স্বজনেরা। এলাকাবাসীর সহায়তায় মনিরা খানমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দীর্ঘ ১৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ২০১১ সালে মনিরা খানম মারা যায়।

এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় আসামি মো. সাহবুদ্দিন খানকে মৃত্যুদণ্ড ও তার ভাই সুমন খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে অপর দুই আসামি আছিয়া বেগম ও ঝুমুর বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ