থাইল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবেতর জীবন

- Advertisement -

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুথত্থান পরবর্তী সময়ে চলা নির্যাতনে থাইল্যান্ড সীমান্তে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বিমান হামলার ভয়ে কেউ সীমান্তে অবস্থান করতে না চাইলেও নিজ দেশেও ফিরতে পারছেন না। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর শরণার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে সীমান্তে যেতে চাইলেও তাদের অনুমতি দিচ্ছেনা থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সরকার।

হাজার হাজার গ্রামবাসী সীমান্তবর্তী একটি নদীর পাশে খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী তাঁবুর মধ্যে বসবাস করছে। একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে রয়েছে বিমান হামলার ভয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করে। সেসময় অনেকেই দেশ ছেড়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যায় পার্শবর্তী দেশ থাইল্যান্ডে। শরণার্থীদের গ্রহণ না করায় সীমান্তেই মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী মোই নদীর পাশে প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুরা অস্থায়ী তাঁবুর মধ্যেই দিন পার করছেন। শীতের মধ্যে তাঁবুর নিচে অসহায় জীবনযাপন করছে তারা। রেড ক্রসের তথ্য মতে প্রায় ৮ হাজার শরনার্থী থাইল্যান্ডে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাস করছে।

এদিকে উপচেপড়া মানুষের কারণে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। এতে সঠিকভাবে বন্টন হচ্ছে না ত্রাণ সামগ্রী। খাদ্যের অভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন অনেকে। যদিও থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা সুষ্ঠুভাবে শরণার্থীদের তত্ত্বাবধান করছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সরকার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তাদের। এ কারণেই শরণার্থীদের কাছে সংস্থাটির ত্রাণ পৌছাতে দেরি হচ্ছে।

একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য মতে জান্তা সরকারের অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪শ বেসামরিক নাগরিক ও বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ