থ্যালাসেমিয়া নিয়ে কিছু কথা, বাঁচতে হলে জানতে হবে

সাকিব হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি।।

থ্যালাসেমিয়া Thalassemia জিনঘটিত বংশগত রক্তের একটি রোগ। এই রোগ সাধারনত বাবা মা হতে সন্তানের হয়ে থাকে। প্রতিবছর সারা বিশ্বে ১ লক্ষের বেশি এবং বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহন করে। বর্তমানে সারাদেশে ৬০ হাজারের বেশি শিশু থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ১০ লক্ষ্য মানুষ অজ্ঞাতসারে থ্যালাসেমিয়ার “বাহক”(চিন্তা করা যায়)।

এই রোগের চিকিৎসা হলো তিন মাস পর পর রক্ত দেয়া (কি ভয়াবহ ব্যপার)। তাতেও পুরু সুস্থতা পাবে এমন নয় যতদিন বাচবে এভাবে রক্ত দিতে হবে, সময় মত রক্ত না দিলে Heart failure হয়ে রোগী মারা যেতে পারে আবার অতিরিক্ত রক্ত দেয়ার ফলে শরীরে আয়রন জমে যকৃত নষ্ট হয়েও মারা যেতে পারে । স্থায়ী চিকিৎসা Bone Marrow transplantation যা বাংলাদেশে প্রায় অসম্ভব এবং খুবই ব্যায় বহুল।


আরও পড়ুন>>


চলুন আজকে জেনে নেই কিভাবে আমাদের শিশুকে থ্যালাসেমিয়া থেকে প্রতিরোধ করবো। চাইলেই এটি প্রতিরোধ সম্ভব। এইটি কোন ছোঁয়াচে রােগ নয় এটি বংশগত রোগ। বিবাহের পূর্বে তরুন তরুনীদের রক্তের একটি পরিক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা যায়। “হিমোগ্লোবিন_ইলেক্ট্রফোরেসিস ” করলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়। কাদের সম্ভবনা আছে? হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রফোরেসিস করলে এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে যে কারা কারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক।

যদি বাবা অথবা মা শুধু মাত্র একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক এবং একজন সুস্থ্য হয়ে থাকে তাহলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া থেকে শতভাগ মুক্ত থাকার সম্ভবনা ৫০ ভগ এবং তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার সম্ভবনা ৫০ ভাগ । যদি বাবা অথবা মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হয়ে থাকেন তাহলে তাদের সন্তান শতভাগ থ্যালাসেমিয়ার মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৫ ভাগ, থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার সম্ভবনা ৫০ ভাগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৫ ভাগ যদি বাবা মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত থাকে তাহলে তাদের সন্তান ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবে। যদি বাবা অথবা মা যে কোন একজন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হন এবং একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন তাহলে তাদের সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ ভাগ এবং থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার সম্ভবনা ৫০ ভাগ।


আরও পড়ুন>>


তাহলে দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক এমন তরুন তরুনী বিবাহ বন্ধন হতে বিরত থাকলেই এটি অনেক অংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাছাড়া গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কিনা নিম্ন পরীক্ষাগুলো করে জানা যায:
কোরিওনিক ভিলিয়াস স্যাম্পলিং (Chorionic villus sampling)
–>অ্যামনিওসেনটিসিস (Amniocentesis)
–>ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলিং (Fetal blood sampling)

তাহলে আমাদের অনাগত প্রজন্ম যাতে থ্যালাসেমিয়ার মত একটি ভয়াবহ রোগ নিয়ে না জন্মায়, তার জন্য আমাদের প্রত্যেককে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতন হতে হবে ।
“সচেতন হই থ্যালাসেমিয়া মুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গিকারে”

সৌজন্যেঃ সাপাহার রক্তদাতা সংগঠন, সাপাহার নওগাঁ

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: