দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরো বাস্তবসম্মত করা দরকার

- Advertisement -

নবী হোসেন মাছুম, প্রতিনিধি।।

“শিক্ষাই আলো” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল প্রচলিত এই স্লোগান এর মর্মকথা হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি ঘরে প্রদীপ জ্বালালে যেমন তা আলোকিত হয়ে ওঠে তেমনি শিক্ষাও আমাদের মনের মলিনতা দূর করে হৃদয়কে করে তোলে আলোকিত ও উদ্ভাসিত।

শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিমনন-কে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ইতিবাচক পথ দেখায়। তবে বর্তমান বাংলাদেশে স্বশিক্ষা ও সুশিক্ষা প্রবণতার বড় সংকট দেখা যায়। শিক্ষা যখন উপভোগ্য না হয় তখন তা হয়ে ওঠে নিছক বোঝা। এতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণের শতশত সনদ থাকলেও ব্যক্তিত্ব, মানসিকতার উন্নয়ন কিংবা কর্মদক্ষতা কোনোটাই অর্জিত হয় না। এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, আমরা যা শিখাচ্ছি তার কার্যকারিতা,প্রয়োগক্ষেত্র এবং তার ফলপ্রসূতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা শিক্ষার্থীদেরকে না দিতে পারা। এক্ষেত্রে, শিখানোর আগে আমরা কী শিখাচ্ছি, কেন শিখাচ্ছি এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট ধারণা দিতে পারলে তারাই এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্ব-প্রণোদিত হয়ে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এই বিষয়টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এমনকি, শিক্ষার্থীরা টিফিনে কী খাচ্ছে, কেন খাচ্ছে এ বিষয়টিও শিক্ষকরা খুব সহজ- সরলভাবে বুঝিয়ে দেন। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথাযথ বিচারবুদ্ধি করার সক্ষমতা তৈরি হয়,স্বীয় কাজে অনুপ্রানিত হয় এবং আত্মতুষ্টি জাগে।

কেবল শ্রেণিকক্ষের গতানুগতিক তাত্ত্বিক পড়াশোনায় কখনো শিক্ষা সর্বত্রগামী হয় না। শিক্ষায় থাকতে হবে শিল্পকর্ম, শরীরচর্চা, প্রদর্শনী, নৈতিকতার প্রায়োগিক শিক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং মাসিক ফিল্ড ট্রিপের ব্যবস্থা। শিক্ষাকে আত্মতুষ্টির মাধ্যমে পরিণত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে পিতামাতা।

সন্তান লেখাপড়ায় পারদর্শিতা না দেখাতে পারলে তার সাথে সযত্নে আলাদাভাবে কথা বলতে হবে, তার ভালো লাগার ক্ষেত্রগুলো জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী তাকে সুযোগ ও পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সন্তান বা শিক্ষার্থী হলো কাঁদামাটির মতো, তাদেরকে যেভাবে গড়ে তোলা হবে, তারা সেভাবেই গড়ে ওঠবে। সুতরাং, শিক্ষা যেদিন উপভোগ্য ও আত্মতুষ্টির মাধ্যমে রূপ নিবে, সেদিনই সুনাগরিক ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির ভিত্তি রচিত হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ