নতুন দাম নির্ধারণের পরও ভোজ্যতেল সংকট

- Advertisement -

নতুন দাম নির্ধারণের পরও রাজধানীর বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট কাটেনি। এতে হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা। এদিকে ডিলাররা বলছেন, রোববার (৮ মে) থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ হলে দাম আরও কম হতো।

বৃহস্পতিবার (০৫ মে) সয়াবিন ও পাম তেলের নতুন দাম সমন্বয়ের দুইদিন পরও বাজারে মিলছে না সয়াবিন তেল। বেশি দামেও তেল না পাওয়ায় হতাশ ভোক্তারা। তারাও বাজার কারসাজি ও সরকারের তদারকির অভাবকেই দুষছেন।

বাজারে সয়াবিন তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়া একজন ক্রেতা বলেন, সয়াবিন তেল কিনতে এসে দেখি বাজারে তেল নেই। বাজারে ডাল, চাল, চিনিসহ সবকিছুর দাম বেশি। সেক্ষেত্রে আমরা সাধারণ মানুষ চলব কীভাবে।

বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তেলের নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি চাওয়ার অভিযোগ করে আরেকজন ক্রেতা বলেন, আগের দামের তেল রয়েছে, সে বোতলের গায়ে যে দাম লিখা রয়েছে, সেটি উঠিয়ে দিয়ে আমার কাছে এক হাজার টাকা চাচ্ছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করে একজন ক্রেতা বলেন, আমরা তো সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি, সাধারণ জনগণ তো আর রাস্তা ঘাটে মারামারি করতে পারবে না।

অভিযোগ রয়েছে, কারসাজি আড়াল করতেই বাজারে তেল সরবরাহ করছেন না মিলাররা। তবে ডিলাররা বলছেন, রোববার (৮ মে) ব্যাংক খোলার পর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

ডিলাররা বলেন, ছুটির কারণে ব্যাংকগুলো বন্ধ। রোববার ব্যাংক খুললে ডিও হবে, পরে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে নতুন তেল আসবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম ওঠানামা করায় এরইমধ্যে নাভিশ্বাস অবস্থা সব দেশেই। ভারতে প্যাকেটজাত সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। এতে তেল পাচারের শঙ্কাও রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতকরণ ও সিন্ডিকেট না থাকলে আরও মানুষ কম দামে তেল কিনতে পারত।

এবিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, যদি ইন্দোনেশিয়া তাদের রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে তাহলে বাংলাদেশের বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞার আগেই বাংলাদেশ বেশ কিছু তেল আমদানি করেছিল। যদি বাজার ব্যবস্থা ভালো হতো, তাহলে সেক্ষেত্রে মাঝখানে যে কারসাজি হলো, বাজারের সব জায়গায় থেকে তেল উধাও হয়ে গেল, সেটি কিন্তু হতো না। তখন আরও এক মাস আমরা বাজার তেলে তুলনামূলক কম দামে তেল কিনতে পারতাম।

বাজারে পাম তেলের সরবরাহ স্বল্প পরিমাণে থাকলেও ডিলাররা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ