নারী, পুঁজিবাদী সমাজ ও পুরুষতান্ত্রিকতা

- Advertisement -

নারীর অপমান সভ্য সমাজের যে কোন মানুষকেই যন্ত্রণা দেয়।নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াস বাদ দিয়ে সংগ্রাম হয় না,সমাজ হয় না। সভ্যতা গড়ে ওঠে না। মানবসত্ত্বাকে দ্বিখণ্ডিত করলে যেমন রক্তপাত হয় তেমনি সমাজেও অন্তর্দাহ তৈরি হয়।

ভোগবাদী সমাজ আজকের দিনে যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে এর পেছনের ইতিহাস কি? ন্যায় নীতি, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক শাসন এবং জনমনে নৈতিকতার মূল্যবোধ গড়ে উঠার পেছনের ইতিহাস কি? আমরা যে সমাজ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আছি সেই ব্যবস্থায় কয়েকদিন পরপর নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধের উপর ভয়ংকর আক্রমণ আসে কেন? শুধু কি আমাদের দেশেই এইরকম ভোগবাদী বিশৃঙ্খল জীবন এবং অমানুষ হওয়ার চিত্র বিরাজমান.? নাকি পৃথিবীর দেশে দেশে মানুষ অমানুষ হচ্ছে, লোভী, আত্মকেন্দ্রিক মদখোর, গাঁজাখোর, আদর্শহীন, কর্তব্যহীন মানুষের জন্ম নিচ্ছে? যে সমাজ নারীর দেহকে ভোগ্যপণ্য করে, ফুর্তি করে, সমাজ মননে শারীরিক সুরসুরি তৈরি করে সেই সমাজকে কোন মাপকাঠিতে ন্যায়ের সমাজ বলা যায়? দেশের শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের নন্দনতত্ত্ব কি? কোন দর্শন এবং মতাদর্শ কর্পোরেট কোম্পানিগুলো চলচ্চিত্র জগতে প্রমোট করে?

সমাজ আজ হাজারো ফাটলে ক্ষতবিক্ষত। সমাজের পরতে পরতে ক্ষুধা, একদিকে পেটের ক্ষুধা অন্যদিকে মানসিক বিকৃত ক্ষুধা। সমাজের অনেক নোংরা ছিদ্র চোখ মেললেই ধরা পড়ে।

নারীর উপর আক্রমণ এখন কি নতুন কিছু? পাকিস্তানি বাইশ পরিবারের পৈশাচিক সৈন্যবাহিনীর হাতে বাঙালি নারীর ধর্ষণের চিত্র বেশীদিন আগের কথা নয়; মাত্র পঞ্চাশ বছর আগের কথা। পাকিস্তানিরা যেভাবে প্রকাশ্যে গণধর্ষণ করে বাঙালি নারীর জীবনকে মর্যাদাহানি করেছে, আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া সত্ত্বেও নারীর মর্যাদাহানি ঘটেছে। বৈষম্যের কষাঘাতে আজও জর্জরিত মানুষের জীবন ।সমাজের উঁচু তলায় রয়েছে চরিত্রের ফাটল আর নিচু তলায় রয়েছে পেটের ক্ষুধা। গোটা সমাজের চিত্র চিন্তা ও জীবনযাত্রার ধরন অসংখ্য ভাগে বিভক্ত, কিন্তু প্রতিটি ভাগেই রয়েছে নির্মম শোষণ।

বাংলাদেশের রাস্তায় নারীরা এখনও নিরাপদ নয়। মেয়েদের দেখলেই কুৎসিত মন্তব্য, নোংরা দেহভঙ্গি, কিডন্যাপ , দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ, নারী পাচার বন্ধ হয় নি। যে সমাজে বিবেক নেই, সেই সমাজে বিবেক মারা গেছে। আমরা বিবেকহীন সমাজের প্রোডাক্ট তাই আমরা দেখি ব্যক্তি জীবনের নানান নোংরা ঘটনা।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে আমরা ভিকটিমের দিকে আঙ্গুল তুলি নোংরা মস্তিষ্ক নিয়ে। ওৎ পেতে থাকি নোংরা মন্তব্যের জন্য ।একজন ব্যক্তিকেই প্রধান অপরাধী করি।অথচ যে ব্যবস্থা অন্যায় সৃষ্টি করে, আবার নতুন অন্যায় জন্ম দিয়ে পুরাতন অন্যায়কে ধামাচাপা দেয় সেই ব্যবস্থা আমরা দেখতে পাই না।আমরা দেখি ভিকটিমকে। কারণ কি?কারণ আমাদের চরিত্র এবং ব্যক্তিত্ব শুকিয়ে মরে গেছে।আমাদের চিন্তা চেতনা দাসত্ব করছে বর্তমান ব্যবস্থার।

আমরা রয়েছি এমন একটি ভোগবাদী ঘেরাটোপের জীবনে যেখানে নারী ভোগের বস্তু এবং ভোগ শেষে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বস্তু।

কার সাথে কার সমস্যা সংকট!কার সাথে কার বিদ্রোহ!কার সাথে কে ঐক্য করবে? কার সাথে হবে সংগ্রাম! কে কার বিরুদ্ধে লড়বে? কাকে সঙ্গে নিবে আর কাকে ছাড়বে? যারা সমাজটাকে পাল্টাতে চায় তাদের জন্য এটা জানা জরুরী ।

পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজি এবং শ্রমের বিপরীত মুখী অবস্থানকে কেন্দ্র করে যেসমস্ত দ্বন্দ্ব সমাজজীবনে আবর্তিত হয় তা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, নারী- পুরুষে, দলে উপদলে, জাতীয়- আন্তর্জাতিক পরিসরে নানাবিধ চেহারায় সামনে আসে। মানুষ ভুক্তভোগী হয়ে প্রত্যক্ষ করে।বিশেষ পরিবেশ পরিস্থিতির আনুকুল্যে তা আমাদের সামনে হিংস্র থাবা দিয়ে যায় কখনও বা নারীর উপর, আবার কখনও বা শ্রমিকের উপর।

দেশের অভ্যম্তরে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোতে পর্যায়ভুক্ত হাজারো অসংগতি রয়েছে ।রাষ্ট্রের ভিতরকার বিপরীত শক্তির দ্বন্দ্বের যে সমস্ত দানবীয় রূপ রয়েছে সেইসমস্ত দ্বন্দ্বগুলো পরিষ্কার হওয়া জরুরী—-

নারীর সাথে-পুরুষের দ্বন্দ্ব,হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্ব, ক্ষুদ্র পুঁজি -বৃহৎ পুঁজির দ্বন্দ্ব,ক্ষুদ্র মাঝারি পুঁজি-বৃহৎ পুঁজির দ্বন্দ্ব, শিল্প পুঁজির সাথে -ব্যবসায়ী পুঁজি বা মাঝারি পুঁজির দ্বন্দ্ব,শিল্প পুঁজি -ব্যাংক পুঁজির দ্বন্দ্ব, করদানকারী পুঁজির সাথে-করবিহীন পুঁজির দ্বন্দ্ব, মাঝারি কৃষকের সাথে -ক্ষুদ্র কৃষকের দ্বন্দ্ব,আমলাতন্ত্রের সাথে -জনগনের দ্বন্দ্ব, সামরিক শক্তির সাথে- জনগণের এবং রাজনৈতিক শক্তির দ্বন্দ্ব, আর্মির সাথে-বিডিআরের দ্বন্দ্ব, একক আমলাতন্ত্রের সাথে যুক্ত আমলাতন্ত্রের দ্বন্দ্ব, আমলার সাথে জনগণের দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক আমলার সাথে  প্রকৌশলী আমলার দ্বন্দ্ব, আইন ব্যবস্থার সাথে বিচার ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব, সরকারি সংস্থার সাথে এনজিও সংস্থার দ্বন্দ্ব, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর সাথে খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বীর দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাথে বেসরকারি ব্যাংকের দ্বন্দ্ব, জাতীয়তাবাদীদের দ্বন্দ্ব, শহরের জনগণের সাথে গ্রামের জনগণের দ্বন্দ্ব, কালো বর্ণের মানুষের সাথে সাদা বর্ণের মানুষের দ্বন্দ্ব, লম্বাটে মানুষের সাথে খাটো মানুষের দ্বন্দ্ব, অধিবাসীদের সাথে আদিবাসীদের দ্বন্দ্ব, কর্পোরেট পুঁজি মাল্টিন্যাশনাল পুঁজির দ্বন্দ্ব, কর্পোরেট কালচার ন্যাশনাল কালচারের দ্বন্দ্ব, ডিজিউস কালচারের সাথে  নস্টালজিক এডাল্ট কালচার এবং মডার্ন কালচারের দ্বন্দ্ব, গ্রাম্য মেম্বার গ্রাম্য চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব, খুঁচরা বাজারের সাথে পাইকারি বাজারের দ্বন্দ্ব, জাতীয় বাজারের সাথে স্থানীয় বাজারের দ্বন্দ্ব, শিল্পের কাঁচামালের সাথে -কৃষিপণ্যের দ্বন্দ্ব, ভোগ্যপণ্যের সাথে -ভারী শিল্পের দ্বন্দ্ব,বড় দেশের সাথে -ছোট দেশের দ্বন্দ্ব,সাম্রাজ্যবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব,উন্নয়নশীল দেশের সাথে-উন্নত দেশের দ্বন্দ্ব, বড় দাতা সংস্থার সাথে ছোট দাতা সংস্থার দ্বন্দ্ব, বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সাথে WTO, I.M.F, I.L.O এর দ্বন্দ্ব, জাতীয় পুঁজির সাথে আন্তজার্তিক পুঁজির দ্বন্দ্ব, আমদানিকারকদের সাথে রপ্তানিকারকদের দ্বন্দ্ব, আওয়ামীলীগের সাথে বিএনপির দ্বন্দ্ব সাথে, বামপন্থী এবং বুর্জোয়াদের দ্বন্দ্ব।

এমন হাজারো অসংগতিপূর্ণ দ্বন্দ্ব সমাজ অভ্যন্তরে পুঁজিবাদী সমাজ রাষ্ট্র কাঠামো জন্ম দিয়েছে গত ৭০০-৮০০ বছরে। যা পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ব্যবস্থা আজ অব্দি নিরসনের পথ বের করতে পারেনি।

বর্তমান পুঁজিতান্ত্রিক পেশাজীবী বুদ্ধিমান বুদ্ধিজীবীরাও মুনাফার সাগরে নিমজ্জিত। পুঁজি এবং শ্রমের দ্বন্দ্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্ত দ্বন্দ্ব সমাজ অভ্যন্তরে আবর্তিত হতে থাকবে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে এবং জাতীয় আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার প্রভাব বিস্তার করবে।

পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পুঁজির কেন্দ্রীভবন, পুঁজির পুঞ্জীভবনের জন্য শ্রম শোষণের জোয়ালটা যদি ঠিকঠাক মতো সমাজের ৯৫% বৃহত্তর শোষিত জনগোষ্ঠীর উপর, এক কথায় শ্রমিক শ্রেণীর উপর কায়েম করতে হয়, তাহলে একদিকে যেমন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা উস্কে দিয়ে পুরুষকে পশুস্তরে নামাতে হবে এবং অন্যদিকে পুরুষকে জঘন্যতম জায়গায় নামিয়ে আনতে হবে নারীর উপর ভোগবাদী আক্রমণ বৃদ্ধির জন্য ।

শরৎচন্দ্রের এই জায়গায় বিখ্যাত একটি উক্তি রয়েছে, “সভ্য মানুষ বোধহয় ভালো করিয়াই বুঝিয়া লইয়াছে, মানুষকে পশু করিয়া না লইতে পারিলে, পশুর কাজ আদায় করা যায় না”।

কেননা নারী-পুরুষের সম্মিলিত শক্তিকে ভঙ্গুর করতে পারার মধ্যেই শোষণের স্বার্থকতা নিহিত। নারীকে নিচু, নিন্ম, ছোটজাত, আত্মসর্বস্ব ভোগের পণ্য বানিয়ে যুগের পর যুগ অবদমিত করে রাখার এটাই ঐতিহাসিক সূত্র।

নারীর উপর নির্যাতনকে সমাজে কায়েম করে নারী পুরুষের যৌথ লড়াই সংগ্রামের যে ইতিহাস , যৌথ জীবন, যৌথ উপলব্ধি, যৌথ সমাজ, যৌথ মনন কাঠামো গড়ে তোলার যে পথ, নতুন সমাজ নতুন মানুষ সৃষ্টির যে প্রয়াস, তাকে শোষকগোষ্ঠী নসাৎ করে দিতে চায়।চায় সংগ্রামের যে পথ আছে -তা যেন ভেঙ্গে যায়, যৌথ শক্তির যাতে অবসান হয় এবং নারী পুরুষ বিভক্তি যাতে শ্রেণী হিসেবে সমাজে আবির্ভূত হয় সেই উদ্দেশ্য থেকেই নারীকে দ্বিধাবিভক্ত পরিবেশে রেখে নারীকে ছোট জাতের পশু স্তরে রেখে দিতে পারলে পুঁজির শোষণ, পুঁজিপতিদের মুনাফা নিরবে নিভৃতে সুষ্ঠু পরিবেশে, হাঙ্গামাবিহীন শান্ত পরিবেশ যেভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। অন্য কোন উপায়ে এতো সহজ সস্তা পথে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কষ্টার্জিত শ্রম এবং উপার্জিত সম্পদ শোষণ করা সম্ভব নয়।

যৌথ শক্তি এবং সংঘ শক্তি এই শিক্ষাই দেয় যে, পুঁজির বিরুদ্ধে শ্রমের সংগ্রাম অনিবার্য।অর্থাৎ অন্যায়ের বিপক্ষে ন্যায়ের সংগ্রাম।তাই মহামতি কার্ল মার্কস স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছিলেন, “পৃথিবীর ইতিহাস শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস”। এই কথাটা অনেক গভীর এবং তাৎপর্যপূর্ণ । এটাই পুঁজিপতিদের ভয়। যতদিন না পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন সমাজ ভেঙ্গে সমাজতান্ত্রিক মানবিক সমাজ, শ্রেণীহীন সাম্যবাদী সমাজ গড়ে তোলা যাচ্ছে ততো দিন পর্যন্ত পুঁজি শ্রম দ্বন্দ্বের আবর্তনে হাজারো রকমের ঐক্য এবং যৌথতা ভেঙ্গেচুরে ছারখার হয়ে যাবে।

নারী পুরুষের বিভক্তি সৃষ্টি করে, আক্রমনাত্মক খড়গ চাবুক চালিয়ে দিয়ে সস্তা অধিকার পাওয়ার ভোগবাদী যে মানসিকতা পুঁজিবাদ খুব সূক্ষ্ম ভাবে সমাজের মধ্যে উপাদেয় হিসেবে প্রবেশ করিয়েছে, তাতে রোগের সাময়িক শুশ্রূষা করা গেলেও আখেরে ফলাফল চলে যাবে পুঁজিবাদী ভোগবাদী গোষ্ঠীর পকেটে।

পুঁজিবাদ আরো একটি কাজ ভালোভাবে করেছে, সেটা হচ্ছে নারীকে পুরুষের শত্রু, পুরুষকে নারীর শত্রু-এই মনোভঙ্গী গড়ে তোলা। পুঁজিবাদী সংস্কৃতিতে আছে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে, আবার ধর্ম ব্যবসায়ীদের মতে, নারী হচ্ছে পুরুষের অধস্তন – এই দুটি মতবাদের মধ্যে ঐক্যও আছে ঐতিহাসিকভাবে।কারণ দুটি মতবাদই নারীর আত্মসম্মানবোধ ভূলন্ঠিত করেছে।নারীর কাছে পুরুষ হলো তার একমাত্র বিপরীতমুখী শত্রু। নারী জন্মের পর সমস্ত অধিকার একমাত্র পুরুষরাই হরণ করে,পুরুষ হলো নারীর জন্মের পরের শত্রু..!! নারীদের মধ্যে এমন মনোভাব জন্ম দিয়েছে ধর্মব্যবসায়ী এবং পুঁজিপতিগণ।কেননা নারীর মধ্যেও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা, উগ্রতা উস্কে দিয়ে পুরুষ জাতি থেকে দ্বিধাবিভক্ত বিচ্ছিন্ন রেখে সমাজটাকে লুটেপুটে খেতে পুঁজিবাদের আরাম, ধর্ম ব্যবসায়ীদেরও আরাম।

তাই বহুযুগ আগে শরৎ বাবু এই দেশে বাঙালি হিন্দু মুসলমান বণিক, পুঁজিপতিদের মুনাফা কেন্দ্রিক মনোভাব এবং উদ্দেশ্যটা বুঝতে পেরেছিলেন। “দেনা পাওনা’ উপন্যাসে তিনি বলেছিলেন, “নারীকে অপমান করিলে যতটুকু আমার কাছে অপমানকর, ঠিক ততটুকু, পুরুষের অপমানও আমার কাছে অপমানকর।সমাজে নারীর স্থান নামিয়া আসিলে নর-নারীর উভয়েরই অনিষ্ট ঘটে।সমাজ মানে নর-নারী। শুধু নর ও নয়,  শুধু নারীও নয়।”

ব্যক্তি স্বাধীনতাকে দেখতে হয়, আর্থ সমাজিক দৃষ্টির আলোকে। কোন সমাজে স্বাধীনতা চাই? সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। একটা পরাধীন, পরনির্ভরশীল, মুনাফেকি, ঘুষখোর, সুদখোর, ঠকবাজ অক্ষম রাষ্ট্রের কাছে স্বাধীনতা চাওয়া মানে হচ্ছে নিজের সাথে নিজে আত্মপ্রবঞ্চনা করা। এই জায়গায় স্ট্যালিন বলেছিলেন, “একজন অভুক্ত চাকুরীহীন বেকার যুবক যে কি ধরনের স্বাধীনতা উপভোগ করার আশা করে তা আমি ভেবে পাই না। শোষণ যেখানে লোপ পেয়েছে, কোন লোক আগামীকাল রুটি, ঘর বা কাজ হারাবার ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত নয়, সেখানেই প্রকৃত স্বাধীনতা হতে পারে। শুধু সেই সমাজেই ব্যক্তি স্বাধীনতা সম্ভব। “

ব্যক্তির স্বাধীনতা আকাশ থেকে পড়বে না, মাটি খুঁড়েও পাওয়া যাবে না।রাষ্ট্রের চরিত্র না পাল্টিয়ে ব্যক্তির চরিত্র পাল্টানো কঠিন এবং দুঃসাধ্য। কারণ রাষ্ট্রের মনোভঙ্গি যদি স্বেচ্ছাচারী হয় সেই মনোভঙ্গি শিশু মনেও বাসা বাঁধতে বাধ্য।তাই আমরা দেখি, নাৎসিবাদী হিটলার যখন পৃথিবীকে এবং পৃথিবীর মানবতাকে আক্রমণ করলো ঠিক তখনই জার্মান নারীর উপর আক্রমণ জার্মানীরাই ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত নাট্যকার এবং অভিনেতা উৎপল দত্তের (১৯২৯-১৯৯৩) ছোট্ট একটি কথা দিয়ে লেখাটি শেষ করছি, “নিজেকে নিয়ে মেতে আছে বলেই পুঁজিবাদী সমাজে মানুষ আর মনুষ্যপদবাচ্য থাকে না; তার মনুষ্যত্বই হয়ে যায় পঙ্গু ও বিকৃত।”

লেখক।।
মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন
কলাম লেখক
[email protected]

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ