ন্যুনতম ৭০ লক্ষ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে কিনতে হবে- শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মনজুর আলম মিঠু চলতি ইরি-বোরো মওসুমে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যাযমুল্যের দাবী জানিয়ে এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।

তারা বলেন দেশে করোনা পরিস্থিতিতে এক সংকটকাল চলছে। করোনা ভাইরাসের আক্রমন মোকাবেলায় সরকার ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রয়োজন ছিলো গরীব-নিম্নবিত্তদের আগামী তিন মাসের খাদ্য সরকারি উদ্যোগে বিনামুল্যে নিশ্চিত করা এবং ন্যুনতম এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিয়ে লকডাউন কার্যকর করা। কিন্তু সরকার তা করছেনা। লোক দেখানো নামমাত্র রিলিফ বিতরন করছে, তারও বেশির ভাগটাই লুটপাট হচ্ছে।

সরকার একদিকে মানুষকে ঘরে থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা চালু করছে। সরকারের এইসব কার্যক্রম প্রমান করে যে,তারা শ্রমজীবিদের মানুষ মনে করেনা।

করোনার কবল থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত জেলা-উপজেলায় করোনা টেষ্টসহ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন শিল্প উৎপাদন বন্ধ, ব্যাবসা-বানিজ্য প্রায় অচল। একই অবস্থা গোটা পৃথিবীর। ফলে মহামারী শেষে শুরু হবে মহামন্দা। ভয়ংকর এক দুর্ভিক্ষ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য, নারী-শিশুরা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখান থেকে বাঁচার একমাত্র পথ কৃষিক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ রাষ্টীয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা।

ইরি-বোরো মওসুমে দেশে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা প্রায় ৩ কোটি ২ লক্ষ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সরকার ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে মাত্র ৬লক্ষ মেট্রিক টন। এই সামান্য পরিমান ধান ক্রয়ের ঘোষনা কৃষকদের সাথে তামাসা।

সেই ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রেও নীতি-পদ্ধতীর জটিলতা এবং দুর্নীতির কারনে খোদ কৃষকরা এখান থেকে কোন সুবীধা পায় না। খোদ কৃষকরা এখানে ধান বিক্রি করতে পারেনা, ধান ক্রয়ের টাকা লুটপাট হয়।

ফলে ক্রয় পদ্ধতি পরিবর্তন করে হাটে-হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি প্রত্যেক কৃষকদের কাছ থেকে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি মুক্ত হয়ে ধান ক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে লটারি করে কাউকে বাদ দেওয়া যাবেনা।

নেতৃবৃন্দ বলেন করোনার প্রভাবে কর্মহীন শ্রমজীবি ও ক্ষুদ্র-মাঝারী আয়ের মানুষদের আগামী তিন মাসের খাদ্যসামগ্রী বিনামুল্যে সরবরাহ করতে হবে। সেজন্য সরকারের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ করা জরুরী। সেই জরুরী প্রয়েজন পূরণ এবং কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সেজন্য এবছর ইরি-বোরো মওসুমে সরকারকে উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ ন্যুনতম ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে। সরকারি খাদ্যগুদামে জায়গা নহলে প্রয়োজনে গুদাম ভারা করতে হবে অথবা কৃষকদের ঘরেই ধান রাখতে হবে টাকা পরিশোধ করে দিয়ে।

তারা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা সরকারী বরাদ্দ লুটপাট হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন। গার্মেন্টস সহ শিল্প-কারখানায় বরাদ্দকৃত টাকার সুবীধা শ্রমিকরা পাচ্ছে না, প্রায় পুরোটাই মালিকদের পকেটে চলে যাচ্ছে। কৃষি প্রণোদনার নামে বরাদ্দকৃত ৫ হাজার কোটি টাকা যাতে লুটপাট নাহয় সেক্ষেত্রে যথাযত নীতিমালা প্রণয়ন এবং কঠোর ভুমিকা পালনের জন্য সরকারের প্রতি দাবী করেন। প্রণোদনার টাকাসহ যেকোন সরকারি বরাদ্দ লুটপাটের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ আান্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

চলতি বর্ষা মওসুমে বর্ষালী ধান যাতে কৃষকরা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে উৎপাদন করে, সেক্ষেত্রে কৃষকদের সর্বোচ্চ সরকারি সহায়তা দিতে হবে। আমন মওসুমে বন্যায় অনেক সময় বীজতলা নষ্ট হয়, ফলে কৃষকরা বীজের অভাবে ধান লাগাতে পারেনা। সেজন্য আমন মওসুমে যাতে কৃষকদের বীজের ন্যুনতম সংকট দেখা না দেয়, তারজন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে দিয়ে পর্যাপ্ত বীজতলা তৈরী করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বি এ ডি সি র মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দিয়ে উৎপাদন খরচে কৃষকদের মাঝে সার-বীজ-কীটনাশক সরবরাহের দাবী করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

লেখক

সর্বশেষ সংবাদ

%d bloggers like this: