নড়িয়াতে ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা স্মৃতি পাঠাগারের করুণ দশা

- Advertisement -

বাংলাদেশে যাঁরা ভাষা সৈনিকরূপে খ্যাত শরীয়তপুরের কৃতি সন্তান ডাঃ গোলাম মাওলা তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এই খ্যাতিমান ভাষা সৈনিকের জন্মস্থান নড়িয়া উপজেলার পোড়াগাছা গ্রামে ২০০৯ সালে ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা স্মৃতি পাঠাগার গড়ে তোলা হলেও তা অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবত।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের দাবি, এই ভাষা সৈনিকের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য তাঁর স্মৃতি বিজড়িত জন্মস্থান পোড়াগাছায় নতুন স্থাপনা নির্মাণসহ ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা স্মৃতি পাঠাগারটিকে উন্নত করে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা সৈনিকদের অবদান তুলে ধরা হোক। ১৯৫২ সালের বিখ্যাত ভাষা আন্দোলনে ডাক্তার গোলাম মাওলার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বেই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রগণ সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। ভাষা আন্দোলনের সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংসদের আহবায়ক এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ সংসদের (১৯৫১-৫২) সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। তাঁর ডাকেই সারা দিয়ে শরীয়তপুরে শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলন। নির্মাণ করা হয়েছিল প্রথম শহীদ মিনার। অথচ এই বিখ্যাত ব্যক্তির নামে নড়িয়া বা শরীয়তপুরে নেই তেমন কোন স্মৃতিস্তম্ভ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবে তারা।

ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা ১৯১৭ সালে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পোড়াগাছা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। শরীয়তপুরবাসী ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলার জন্য গর্বিত। বিখ্যাত এই ভাষা সৈনিকের নামে শরীয়তপুরে দু/একটি স্থাপনা ছাড়া আর কোন স্মৃতি চোখে পড়ে না। শরীয়তপুর সদরে রয়েছে ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা গণগ্রান্থাগার। তার বাড়ির নিকট ডাঃ গোলাম মাওলা নামে একটি সড়ক ও একটি ব্রীজের নামকরণ করা হলেও সেগুলোর এখন বেহাল দশা। ডাঃ গোলাম মাওলা ছিলেন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি। নিজ গ্রামের বাড়ি ডাঃ গোলাম মাওলার বসতঘর যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও রাত্রিযাপন করেছিলেন সেটিও এখন জরাজীর্ণ। বাড়িতে নেই বিদ্যুত সংযোগ। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য নড়িয়াতে একটি ভাস্কর্যসহ তার নামে স্থাপনা নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন তার সন্তান ডাঃ গোলাম ফারুখসহ এলাকাবাসী।

শরীয়তপুরের ভাষা সৈনিক জালাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ডাঃ গোলাম মাওলার নেতৃত্বে যখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়, তখন তাঁর আহবানে উজ্জীবিত হয়ে শরীয়তপুরের ছাত্ররাও ভাষা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাকিস্তান সরকার যখন ভাষার উপর অত্যাচার শুরু করেন তখন ডাঃ গোলাম মাওলা সংগঠন করে আন্দোলন শুরু করেন। এর প্রভাব পড়ে শরীয়তপুরেও। শরীয়তপুরের পালং তুলাসার গুরুদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র জালাল উদ্দীন আহমেদ এবং আলী আহাম্মদ মিয়াসহ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা তখন মিছিল মিটিং করে বাংলা ভাষার দাবীতে আন্দোলন চালায়। ১৯৫৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি কলাগাছের শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা প্রতি শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৮ সালে উক্ত বিদ্যালয় মাঠে ইট বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয় জেলার প্রথম শহীদ মিনার। এখন জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার রয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার এই বিশিষ্ট ভাষা সৈনিকের স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা ১৯৬৭ সালের ২৯ মে অল্প বয়সে চর্মরোগের কারণে ইন্তেকাল করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ