পঞ্চগড়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ফ্রেন্ডশিপ তেল পাইপলাইনের কাজে ধীরগতি

0
66
পঞ্চগড়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ফ্রেন্ডশিপ তেল পাইপলাইনের কাজে ধীরগতি
পঞ্চগড়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ফ্রেন্ডশিপ তেল পাইপলাইনের কাজে ধীরগতি
মোঃ রাশেদুজ্জামান (রাশেদ), পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া উপজেলা বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর হতে ভারত-বাংলাদেশ আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা ইন্দোবাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের কাজ ২০১৯ সালে সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়ার কথা থাকলে কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় পাইপলাইলের কাজ ধীরগতি এবং নিদ্রিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি এবং সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে তেলের দাম হ্রাস নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষি সেচে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সরবরাহে সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের শিলিগুড়ি জেলার নূমালীগড় তেল শোধনাগার থেকে প্রায় ২২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাইনটি

বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে প্রবেশ করে তেতুলিয়া উপজেলা,পঞ্চগড় সদর, বোদা উপজেলা, ঠাকুরগাও জেলা হয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত ইন্দোবাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

আঞ্চলিক জ্বালানি ইন্দোবাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার যা ভারত অংশে পরবে ৫ কিলোমিটার নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় হবে ৫২০ কোটি টাকা যার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করেপোরেশন ২১৭ কোটি টাকা এবং ভারত ৩০৩ কোটি রুপি যৌথ ভাবে নির্মাণ কাজে ব্যয় করবে। এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সয়মসীমা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ বছর।


আরও পড়ুন


পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাংলাবান্ধা থেকে জেলার উপর প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাও প্রবেশ করে লাইনটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে তেলের লাইনটি সংযুক্ত হবে। এদিকে স্থানীয় ভুমি পর্যবেক্ষণের পর জমি অধিগ্রহনের মধ্য দিয়ে পাইপ লাইনের নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহনের জন্য এক হাজার প্লটের কাগজ পত্র সংগ্রহ শুরু করেছে।

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ভুক্তভোগী ইনসান সাগরেদ তিনি অভিযোগ করে বলেন, নতুন আর,এস রেকোর্ট এবং জমির পর্চা থাকলে খতিয়ান না হলে পূনরায় খারিজ করতে বলেন কিন্তু নতুন রেকর্টে এখন পর্যন্ত খতিয়ান সম্পূর্ণ হয় নাই। এদিকে আমরা জমি খারিজ করতে গেলে কবলাকৃত দলিল,ভায়া দলিল,৬২ রেকর্টের মূল খতিয়ান থাকলেও বিভিন্ন ধরণের কাগজপত্র তলব করেন। এসব জমির কাগজ সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক ভাবে সমস্যায় পরতে হচ্ছে। আমার কবলা কৃত দলিল এবং জমি দখল থাকলেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এদিকে একই ভাবে আরাজি শিকার পুর মৌজার মমিন, হাবিবুল্লাহ,রাজিয়া বেগম, জাহাঙ্গীর পৌর কমিশনার অভিযোগে বলেছেন।

জেলা সদর সহকারী কমিশনার ভূমি আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন প্রকার তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান তিনি জানান, আঞ্চনিক জ্বালানি পাইপ লাইনের নির্মাণ এবং জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু হয়েছে।

এ দিকে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট(রাজস্ব শাখা, ভূমি অধিগ্রহণ ও আর,এম শাখা) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন তিনি বলেন, করনো ভাইরাস এবং অতিবর্ষনের কারণে প্রায় তিন মাস প্রকল্পের কাজ বন্ধ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার কাজী এন্ড কাজী প্রায় ৯ একর অরগানিক চা বাগানের উপর দিয়ে পাইপ লাইনের নকশা থাকায় কাজের জটিলটা সৃষ্টি হয়েছে। যে সব মৌজার উপর দিয়ে পাইপ লাইলের প্রকল্পের কাজ ধরা হয়েছে সেই জায়গা গুলির মালিকা ও বাটয়ারা জটিলতা রয়েছে। ইন্দোবাংলা ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের মূল্য জানতে চাইলে তিনি জানান, গত দুই বছর আগের বাজার মূল্যে দিগুণ টাকা দেওয়া হবে।

Leave a Reply