পরস্পর বিরোধী অবস্থানে পাংশা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা

পরস্পর বিরোধী অবস্থানে পাংশা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা
পরস্পর বিরোধী অবস্থানে পাংশা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা

রাজবাড়ী জেলার পাংশা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. আতাউল হক খান চৌধুরীর সাথে কলেজ শিক্ষকদের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। শিক্ষক কর্মচারীদের এসিআর প্রদান ও কলেজ তহবিলে রক্ষিত দুই কোটি চব্বিশ লাখ টাকা ফেরতের দাবীতে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ পরস্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামার পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। গত দু’দিন ধরে শিক্ষকরা কলেজ মিলনায়তনে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ আতাউল হক খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঐক্যমত পোষণ করে বক্তব্য দেন শিক্ষকরা।

পাংশা সরকারী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম শরিফুল মোরশেদ রনজু বলেন, অধ্যক্ষের দুর্নীতি, আর্থিক অব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোহা. আতাউল হক খান চৌধুরী বাংলা দর্পনকে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা তার কাছে কোনো এসিআর ফাইল জমা দেননি। ২৩ নভেম্বর সকালে শিক্ষক পরিষদ কর্তৃক সকল শিক্ষকের সভা আহবান করা হয়। সভায় শিক্ষকদের দাবী ছিল বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন-এসিআর সকলের সামনে নম্বর দিতে হবে। সেই সাথে পাংশা সরকারী কলেজ জাতীয়করণ (০৮/১০/২০১৫) এরপর গৃহীত বেতন ভাতাদি কলেজ তহবিলে রক্ষিত দুই কোটি চব্বিশ লাখ টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেরত দেওয়ার দাবী করেন।


আরও পড়ুন>>


অধ্যক্ষ আতাউল হক খান চৌধুরী বাংলা দর্পনকে আরো বলেন, এসিআর প্রতিবেদন স্ব-স্ব ব্যক্তির সন্মুখে নম্বর দেয়ার সরকারী বিধান নেই। ২০১৮ সালে পাংশা সরকারী কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারী বেতন ভাতাদি বকেয়া হিসেবে ৮/১০/২০১৫ থেকে অর্থ বরাদ্দ হয়। যাহা কলেজ থেকে গৃহীত বেতন ভাতাদি ফেরত দিয়ে বকেয়া গ্রহন করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একই ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে এবং সরকারী বেতনভাতাদির অর্থ দুইবার বেতনভাতাদি উত্তোলন করার সুযোগ নাই।

অধ্যক্ষ বলেন, ২৩ নভেম্বর দুপুর ১২ টায় ইউএনও অফিসে অনলাইন ক্লাস সংক্রান্ত সভায় অংশগ্রহন করে কলেজ অফিস কক্ষে ফিরলে তার নিকট থেকে দুই কোটি ২৪ লাখ টাকার চেক দাবী করেন শিক্ষকরা। সরকারী অর্থ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে চেক দিতে অসম্মতি জানালে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তৈয়েবুর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক তোফাজ্জেল হোসেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক তোজাম্মেল হোসেন, বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও কলেজ শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ শিব শংকর চক্রবর্তী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক ড. মনিরুল ইসলাম, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল খালেক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক একেএম শরিফুল মোরশেদ রনজু কলেজ অধ্যক্ষের উপর মারমুখী হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এ সময় বাক-বিতন্ডায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি পাংশা মডেল থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে ওসি তাৎক্ষণিক পুলিশের একটি টিম কলেজ ক্যাম্পাসে পাঠান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়।


আরও পড়ুন>>


জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কলেজের সকল বিভাগের শিক্ষকরা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে বৈঠকে মিলিত হন। অপরদিকে অধ্যক্ষ মোহা. আতাউল হক খান চৌধুরী নিজ অফিস কক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রম দেখভাল করেন।

এদিকে, পাংশা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আতাউল হক খান চৌধুরীর সাথে শিক্ষকদের উদ্ভূত পরিস্থিতির সুরাহা না হলে যে কোনো মুহুর্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply