পরিবারের তিন সদস্য হারিয়ে নির্বাক বেঁচে ফেরা আলো-অর্পিতা

- Advertisement -

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে ট্রলারডুবির ঘটনায় আরাজি শিকারপুর গ্রামের একই পরিবারের এক শিশুসহ তিনজন মারা গেছে। মহালয়া দেখতে পরিবারটি থেকে সাত সদস্য গিয়েছিলেন। তার মধ্যে তিনজন ট্রলার ডুবে মারা গেছেন, দুজন বেঁচে ফিরেছেন। এখনও নিখোঁজ দুজন। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

এর আগে রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের মর্মান্তিক ট্রলারডুবির ঘটনায় মা, কাকি ও ছোট বোন মারা যান। আজ তাদের স্থানীয় শশ্মানঘাটে শেষকৃত‍্য হবে।

ট্রলারডুবির ঘটনায় নির্বাক বেঁচে ফিরে আসা আলো (২৫) ও বোন অর্পিতা (১৭)। এ ছাড়া আলোর দুই মেয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। বাড়ির তিন সদস্যকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আলো ও অর্পিতা। কোনো সান্ত্বনাই যেন তাদের বিলাপ থামাতে পারছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহালয়া উপলক্ষে করতোয়া নদী ট্রলারে পার হচ্ছিলেন সনাতন ধর্মের শতাধিক মানুষ। এ সময় ট্রলারটি কিছুদূর যাওয়ার পর দুলতে শুরু করলে মাঝি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নদীর মাঝখানে ট্রলারটি ডুবে যায়। অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠলেও শিশুসহ অনেকেই ডুবে যায়। এদিকে ডুবে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে হ্যান্ডমাইকে নৌকার মাঝিকে সাবধানও করছিল পুলিশ।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোলেমান আলী বলেন, মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে। এ ছাড়া আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, এ জেলার ইতিহাসে ভয়াবহ ট্রলারডুবি এটি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। জেলা প্রশাসন আহতদের চিকিৎসা খরচ বহন করবে।

এদিকে নৌকাডুবির খবর শুনে ছুটে আসেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন। এ ছাড়া নদী পারাপারের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ওয়াই আকৃতির ব্রিজের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ