পাচারকারীর হাত থেকে পালিয়ে দেশে ফিরলো এক যুবতী। ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

- Advertisement -

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম দিয়ে পাচারকারীর হাত থেকে পালিয়ে দেশে ফিরলো এক যুবতী। ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ ।

ঘটনার বিবরণপ জানা যায় – সোহেল নামে এক ছেলের সাথে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন এক যুবতী । বিয়ের আগে ও পরে ২ বার ভারতে পাচার করা হয়েছিল শাম্মি (ছদ্মনাম) নামের ওই যুবতীকে।

ভারতে পাচার হওয়া ও পালিয়ে দেশে ফরে আসা পর্যন্ত সময়ে দুই বার তাকে ধর্ষণ করে পাচারদলের সদস্যরা। টাকার জন্য তাকে আটকে রাখেন তারা। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করেন শাম্মির ওই যুবতী।

সে জানায় এ ঘটনার মুল হোতা সোহেল মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে।

এদিকে এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানার পুলিশ শনিবার দিনে ও রাতে অভিযান চালিয়ে পাচারদলের সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মোকছেদুল হক ও চম্পা বেগম নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পাটগ্রাম পুলিশ থানা সুত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৩ বছরে আগে পরিচয় হয় শাম্মীর এর পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গরে উঠে। তারপর প্রেমিক হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার ছেলে সোহেল প্রেমিকা শাম্মিকে (ছদ্মনাম) নিয়ে অবৈধ ভাবে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।

সেখানে প্রেমিকা শাম্মিকে দিয়ে জোর পুর্বক দেহ ব্যবসা করান প্রেমিক সোহেল। ৮/৯ মাস পর ভারতের কলকাতা থেকে কৌশলে একই পথে দেশে পালিয়ে আসে শাম্মি। এর কিছু দিন পর দেশে ফিরে আসেন সোহেলও। এরপর এ বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ আদালতে সোহেল-শাম্মির বিয়ে হয়। ইতোমধ্যে শাম্মি গর্ভবতী হয়ে পরে।

তারপর আবারও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে প্রেমিক স্বামী সোহেল। শাম্মিকে পাচারের জন্য আবারও পাচারকারীদের সাথে যোগাযোগ করে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাঠিয়ে দেয় স্বামী সোহেল। এবং গত ১৩ মে ভোরে পাচারকারীরা তাকে ওই উপজেলার দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করে দেয়। এ সময় শাম্মিকে ধর্ষণ করেন ওই পাচার দলের সদস্য মোকছেদুল।

শাম্মি ভারতে প্রবেশের পর বুঝতে পারেন তার স্বামী তাকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ১৫ মে রাতে আবারও শাম্মি কৌশলে বাংলাদেশের দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসেন।

দেশে ফেরার পর এবার আশরাফুল ইসলাম নামে অপর এক পাচারকারী দলের সদস্য তাকে ধর্ষণ করেন। টাকার জন্য শাম্মিকে ১৫ মে থেকে আটকে রাখেন পাচার দলের সদস্যরা। সেখান থেকেও কৌশলে পালিয়ে পাটগ্রাম থানায় আশ্রয় গ্রহণ করে শাম্মি।

পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মুল হোতা সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ