পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে লাভ কী, যদি কাজের দক্ষতা না থাকে: শিক্ষা উপমন্ত্রী

- Advertisement -

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা আরবি শেখে, ধর্ম শেখে; তবে এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা শিখতে হবে। এটা না হলে বিদেশে গেলে ভাষা না বুঝলে কাজ করবে কীভাবে? ভাষা শিখতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েও লাভ কী, যদি কাজের দক্ষতা না থাকে!

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শনিবার (০৭ মে) দুপুরে আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ছাত্রী শাখার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষা বাংলার ওপর দক্ষতা নেই, ইংরেজির ওপর দক্ষতা নেই- তাহলে তো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারব না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টাকাপয়সা, ধনসম্পদ কবরে নিয়ে যেতে পারব না। এগুলো মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা দেশে বিরাজমান থাকায় আমরা সবাই এ দেশের মানুষ খেয়ে-পরে বেঁচে আছি।

মন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মের কথা যদি চিন্তা করি, তাহলে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হতে হবে আমাদের শিক্ষা এবং দক্ষতার ওপর। মাদ্রাসা ভবন তৈরির কাজটা যদি আমাদের সন্তানরাও দেখতে পারত, শিখতে পারত এবং তাদের মধ্যে সব কাজকে সম্মান করার একটা মানসিকতা গড়ে উঠত। মাদ্রাসা থেকে এমন সন্তান তৈরি করবেন, যারা সব কাজকে সম্মান করতে শিখবে।

তিনি বলেন, একজন মুচি, শ্রমিক, নাপিত সবাই সমাজে গুরুত্বপূর্ণ- আমরা শিক্ষিত হলেই এটা ভুলে যাই; আমরা আত্মঅহমিকায় ভুগি। পাশ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অতি ভদ্র মানুষে পরিণত হয়েছি। আমাদের মানসিকতা এবার আমাদের চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করতে হবে, সরকারি চাকরি করতে হবে। অথচ আমাদের সন্তানদের হাতেকলমে শিক্ষা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশের অর্থনীতি একজন শ্রমিকের হাতে, কৃষকের হাতে বলে জানান তিনি।

সন্তানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা, কোনো ধরনের বিরোধিতা চলবে না, এটা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ। প্রতিমাসে আমরা প্রায় ৩২০ কোটি টাকা সরকার শুধুমাত্র মাদ্রাসায় এমপিওভুক্তদের বেতন-ভাতা দেই। বছরে তিন হাজার ৮৪০ কোটি টাকা শেখ হাসিনার সরকার দ্বীনি শিক্ষার জন্য ব্যয় করছে, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য খরচ করছে। ১২ হাজার মাদ্রাসা তিনি নির্মাণ করে দিয়েছেন। যারা শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে, তারা শুধু দ্বীনি ইসলামকে বিকৃত করে এই বাংলাদেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছে। তারা মাদ্রাসার সন্তানদের দেখিয়ে বিদেশ থেকে শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকা অনুদান নিয়ে এসেছে ধর্ম ব্যবসায়ীরা অনেক বছর ধরে।

তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, বেঈমানদের প্রতিহত করতে হবে। সত্যিকারের দ্বীনি শিক্ষা পেতে হবে। বর্তমান আধুনিক দুনিয়ায় নৈতিক শিক্ষা, দ্বীনি ইসলামের শিক্ষা অবশ্যই পেতে হবে। নিজের আত্মিক উন্নতি না হলে, শুধুমাত্র লৌকিকতার জন্য দ্বীনি শিক্ষার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে। দক্ষতার সমন্বয় করতে হবে। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন করছি।

মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সাংসদ আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীও মাহফিলে বক্তব্য রাখেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ