পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে রুল শুনানি আজ

- Advertisement -

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাট মামলার পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) ভারতে গ্রেফতারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত রুলের শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর এ বিষয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ। সেটির বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ মে) শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

তার আগে গত সোমবার (১৬ মে) ভারতে পি কে হালদার গ্রেফতার হওয়ার তথ্য আদালতকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন। এদিন পি কে হালদার সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য উপস্থানের পর রুলটি মঙ্গলবার শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চে কার্যতালিকায় রয়েছে। এ সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আদালত বলেন, ‘আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে–ই হোক।’

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পি কে হালদার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা করেছে। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা গত শনিবার (১৪ মে) পি কে হালদারসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাচারে জড়িত বাংলাদেশের একাধিক ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন তিনি। এ সময় প্রশাসন ১০টি বিলাসবহুল বাড়ি সিলগালা ও বিপুল সম্পদের দলিল ও নথিপত্র উদ্ধার করেছে।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে এই অর্থ পাচার করেছিলেন তিনি। তাকে গ্রেফতার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

এমন অবস্থায় কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় খুব সহজেই পি কে হালদারকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা যাবে। এ জন্য প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় যৌথভাবে কাজ করবে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে এই অর্থ পাচার করেছিলেন তিনি। তাকে গ্রেফতার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

এর আগে শনিবার (১৪ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অভিযান চালিয়ে পি কে হালদারের পাশাপাশি তার স্ত্রী ও ভাইকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতার করে ভারতের অর্থসংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থা ইডি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদার নাম পাল্টে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে বসবাস করতেন। প্রদেশের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

এর আগে পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আত্মীয়স্বজনের নামে আরও বেশ কয়েকটি বাড়ির সন্ধান পায় ইডি। আর ১৩ মে’র দিনেই (শুক্রবার) গ্রেফতার করা হয় তার ভাগনে প্রাণেশ হালদারকে।

হাজার কোটি টাকা লোপাটের মূল অভিযুক্ত ও পাচার মামলার পলাতক আসামি পি কে হালদার। দেশের পর দেশের বাইরে অভিযানে একের পর এক বেরিয়ে আসে তার অর্থপাচারের নানা তথ্য। খোঁজ মিলে বিপুল পরিমাণ সম্পদেরপাশাপাশি পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ বেশ ক’জনের নামও উঠে আসে। এরইমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ