পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র

- Advertisement -

পূর্ব এশীয় অঞ্চলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। গত বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য সিঙ্গাপুর পোস্ট।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নৌ-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোনাল্ড ও’রউর্কের লেখা ১২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি দক্ষিণ চীন সাগর (এসসিএস), পূর্ব চীন সাগর (ইসিএস) এবং পীত সাগরে মার্কিন স্বার্থের সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া এই বিশাল জলরাশিতে তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামসহ যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে বর্তমান এবং উদীয়মান অংশীদারদের অংশীদারত্বের কথা ব্যাখ্যা করেছেন ও’রউর্ক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এ ছাড়া ওই অঞ্চললে মিত্র জাপান এবং ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরপত্তা চুক্তিও রয়েছে। সেগুলো বজায় রাখা ওয়াশিংটনের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এ ছাড়া অঞ্চলটিতে চীনের আধিপত্য ও আগ্রাসনকে রুখে দিয়ে নিজেদের ও মিত্রদের প্রভাব বৃদ্ধি করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে, পূর্ব ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রভাব খর্ব করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় চীন। এ জন্য সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে সেখানে সামরিক স্থাপনাও নির্মাণ করেছে বেইজিং। পাশাপাশি অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত বাঁধিয়ে একটির পক্ষ নিয়ে অন্য দেশের জলসীমা লঙ্ঘন করছে বেইজিং। তাদের মূল উদ্দেশ্য- একচ্ছত্র আধিপত্য, আর সেই পথেই হাঁটছে শি জিনপিং সরকার।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রশ্নে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে। মতবিরোধের মূল কারণ, দক্ষিণ চীন সাগরের ৮০ শতাংশের ওপর চীন তার সার্বভৌমত্ব দাবি করছে, যা উপকূলবর্তী অন্য দেশগুলোর জন্য উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে মূলত স্প্রেটলি এবং প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে অসংখ্য সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। স্প্রেটলিসে চীন কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, হেলিকপ্টার পরিকাঠামো ও এয়ারফিল্ড তৈরি করেছে। এছাড়া এই অঞ্চলজুড়ে নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে চীন। বৃহত্তর ঘাঁটিগুলোতে সামরিক বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেনা ও বৃহত্তর টহল দল। এর অর্থ হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে তার সামরিক ঘাঁটির প্রসার করবে।

সিআরএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম দ্বীপগুলো চীনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এই কৃত্রিম দ্বীপগুলো উন্মুক্ত। স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিমান আক্রমণ থেকে বেঁচে যায়। কারণ প্রাকৃতিক দ্বীপের পাহাড় ও বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা যায়। তবে চীন যে দ্বীপগুলো তৈরি করেছে তাতে কোনো বন বা পাহাড় নেই যে লুকিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করা যায়। এখানে আক্রমণ করলে মনুষ্যনির্মিত প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনাগুলোও বাঁচতে পারবে না।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ