প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ধর্ষণ চেষ্টা ও চাঁদাবাজী মামলার আসামীরা

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি।।
- Advertisement -

নওগাঁর মহাদেবপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদী ফরিদা পারভীন ও তার পরিবার। মামলা দায়ের করার তিন সপ্তাহ পার হতে চললেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার না করায় আসামীরা আরো বেপরোয়া হয়ে মামলা উঠিয়ে না নিলে বাদীর পরিবারকে মারপিট, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, উচ্ছেদসহ প্রাণনাশের হুমকী দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বাদীর পরিবার।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল উপজেলার হাতুড় গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর মেয়ে ফরিদা পারভীন (৩২) এর সাথে পাশ্ববর্তী উখরইল গ্রামের রফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন ফরিদা পারভীন মায়ের বাড়িতে অবস্থানকালে রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতুড় গ্রামের মৃত ইসমাইলের পুত্র মোঃ বরকত (৪৭), সাদেকুল ইসলামের পুত্র মাহাবুব আলম সাদ্দাম (২৮), মৃত নাজিম উদ্দীনের পুত্র শাহাজান (৪২), মৃত মফি মন্ডলের পুত্র আতাউর রহমান (৪৫) ও উখরইল গ্রামের মৃত ওমির উদ্দীনের পুত্র আজাহার (৪৫) তাদেরকে চাঁদা না দিয়ে বিয়ে করার অপরাধে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে ঢুকে করে চাঁদার দাবীতে মারপিট শুরু করে। তাদেরকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী প্রদান করে। মারপিটের এক পর্যায়ে ফরিদা পারভীনের স্বামী রফিকুল ইসলামের এক হাত ভেঙে যায়। এ সময় তাকে বাড়ির ভিতরে কাঁঠাল গাছের সাথে বেঁধে রেখে স্ত্রী ফরিদা পারভীনকে মারপিট ও বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ফরিদা পারভীন বাদী হয়ে গত ২০ এপ্রিল ওই পাঁচজনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পুলিশ কোন আসামীদের গ্রেফতার না করায় আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফিরা করছে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকী প্রদর্শণ করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দীন মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ