প্রাকৃতিক গ্যাসে ভাসছে ভোলা, শিগগিরই খনন শুরু ৩ কুপ

- Advertisement -

প্রাকৃতিক গ্যাসে ভাসছে ভোলা। বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান মিলছে এখানে। এই গ্যাসের ওপর নির্ভর করেই একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার অপেক্ষায় রয়েছে জেলায়। এতে এক দিকে যেমন জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে, অন্য দিকে বিপুল সংখ্যক বেকারের কর্মসংস্থান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুব শিগগিই জেলায় আরো তিনটি কুপের খননকাজ শুরু হচ্ছে। ইলিশা-১, ভোলা নর্থ-২ ও টবগী-১ নামের এই ৩টি কুপের খনন শুরু হবে আগামী বছরের শুরুতে। এর আগে বাপেক্সের একটি অনুসন্ধান দল ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ করে জেলার আলাদা তিনটি স্থানে গ্যাসের সন্ধান পায়। এ তিনটি কুপের খনন শুরু হলে জেলায় সর্বমোট কুপের সংখ্যা দাড়াবে নয়টিতে।

বাপেক্স জানিয়েছে, জেলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের চারটি কুপ ছাড়াও শাহবাজপুর ইষ্ট ও ভোলা নর্থ নামে আরো একটি গ্যাস ক্ষেত্রের দুটি কুপে মোট গ্যাসের মজুদের পরিমাণ প্রায় ১.৩ টিসিএস (ট্রিলিয়ন কিউবিট ফিট)।

এর মধ্যে নতুন আবিস্কৃত শাহবাজপুর ইষ্ট কুপে মজুদ রয়েছে ৭০০ বিসিএফ ও ভোলা নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রে রয়েছে প্রায় ১ টিসিএফ ঘনফুট গ্যাস। বাকি সব গ্যাস রয়েছে শাহবাজপুর ক্ষেত্রে।

বাপেক্সের উপ-ব্যবস্থাপক সৌমিত্র পাল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপে ইলিশা, দক্ষিণ চরপাতা ও টবগীতে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। তবে সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না। রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাস ফ্রোম নতুন তিনটি কুপ খননের কাজ করবে। জেলায় ইতোমধ্যে ছয়টি কুপ খনন হয়েছে। খুব শিগগিরই আরো তিনটি কুপ খনন হবে।

সুত্র জানিয়েছে, জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের যে মজুদ তা ভবিষ্যতে মোট মজুদের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এতে বলা চলে, গ্যাসে ভাসছে ভোলা।

বাপেক্স জানিয়েছে, বর্তমানে ভোলাতে যে পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে তার মধ্যে প্রতিদিন উত্তোলন হচ্ছে ৬৫ বিলিয়ন ঘনফুট। যা চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, একটি কারখানা ও বেশ কিছু গৃহস্থলি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাপেক্সের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোলার গ্যাস আপাতত বাইরের জেলায় যাচ্ছে না। তবে ভোলা-বরিশাল ব্রিজ হলে তখন হয়তো সরবরাহ হতে পারে। জানা গেছে, শাহবাজপুর ইস্ট নামের একটি কুপ ও নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাসের মজুদ থাকলেও সেখান থেকে আপাতত কোনো গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে না। যদিও এসব কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে। নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যুৎকেন্দ্র না থাকায় গ্যাসের ব্যবহার হচ্ছে না। এ জেলায় আরো বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

সাতটি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ১০টি থানা ও ৬৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দ্বীপজেলা ভোলার আয়তন প্রায় তিন হাজার ৪০৪ বর্গমিটার। এ জেলার জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে মেঘনা, তেতুলিয়া ও ইলিশা নদী। এ ছাড়াও ২৭ হাজার ৫২৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে বনাঞ্চল রয়েছে।

এদিকে ভোলার গ্যাস ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলে আগামী কয়েক বছর পর একটি উন্নয়নশীন জেলায় রূপান্তিত হবে ভোলা, এমনটিই মনে করছেন ভোলাবাসী। তাদের দাবি, গৃহস্থালি কাজেও গ্যাসসংযোগ দেয়ার।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার হয়। সেখানে চারটি কুপ খনন হয়েছে। বর্তমানে ১, ২ ও ৩ নম্বর কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।
আরো সংবাদ

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ