ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ম্যাক্রোঁ

- Advertisement -

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিয়েছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মে) এলিসি প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

ফ্রান্সে কোনো প্রেসিডেন্টের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বিরল হলেও, গেল এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত ধাপে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ডানপন্থী মেরিন লে পেনের বিরুদ্ধে বড় জয় পান ম্যাক্রোঁ।

‘সম্মান’ এবং ‘বিবেচনার’ সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শনিবার (৭ মে) এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় ফ্রান্স এবং বিশ্বের জন্য কঠিন এই সময়ে উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ম্যাক্রোঁ। বলেন, ‘প্রথম মেয়াদের ধারাবাহিকতা নয়, আমার দ্বিতীয় মেয়াদ হবে নতুন।’

গত ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কট্টর ডানপন্থি লা পেন। ফ্রান্সে ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন ম্যাক্রোঁ।

দেশটিতে ২০০২ সালের পর কোনো প্রেসিডেন্ট পরপর দু’বার নির্বাচিত হননি। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৪৪ বছর বয়সী ম্যাক্রোঁ।

এর আগেও দুই প্রেসিডেন্ট এলিসি প্রাসাদে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরেছিলেন। ১৯৮৮ সালে ফ্রঁসোয়া মিতেরঁ ও ২০০২ সালে জ্যাক শিরাক। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে বিজয়ী হওয়ার আগে তারা ছিলেন বিরোধী দলে।

দুটি ঘটনার সময়েই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে সত্যিকারের সরকার ছিল প্রেসিডেন্টের প্রতিপক্ষের হাতে। যদিও ক্ষমতায় থাকলেও মিতেরঁ ও শিরাক ছিলেন রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশূন্য, যা বিরূপ পরিস্থিতিতেও তাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ভোটে জয়ী হতে একটি অনুকূল পরিবেশ খুঁজে পেয়েছিলেন তারা।

১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গলের জয় নিয়ে বলতে গেলে মনে রাখতে হবে, শুরুতে তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির হাত থেকে ফরাসিদের স্বাধীন করতে নেতৃত্ব দেন এই সেনা কর্মকর্তা।

আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হন ম্যাক্রোঁ। পুরো শাসনকালে ফরাসি পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতিটি দিক তার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। প্রথম মেয়াদে ৪৪ বছর বয়সী এই ফরাসি রাজনীতিবিদকে অনবরত কূটনৈতিক তৎপরতায় লেগে থাকতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন।

ফের জয়ী হওয়ার পর ইউক্রেন সংকট মোকাবিলার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যাবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাক্রোঁ নিজেকে এমন এক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যার আশা-ভরসার স্থল ইউরোপ। তার যুক্তি—বৈশ্বিক মঞ্চে আরও শক্তিশালী হতে ফ্রান্সের পথ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সরকারের সঙ্গে ফরাসিদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে একটি অদ্ভুত রীতি দেখা গেছে। প্রথমে হইহুল্লোড় করে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে পরে প্রথম সুযোগেই তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। সে হিসেবে এ জয় ম্যাক্রোঁর জন্য বড় সফলতা। ফরাসিরা তাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেনি, তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই নির্বাচন।

দুটি পদ্ধতিতে তিনি মানুষকে জয় করেন। যার প্রথমটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য ভালো কিছুর আভাসই দিচ্ছে। দ্বিতীয়টি অবশ্য হালকা নেতিবাচক। নির্বাচনের ফল বলছে, সামাজিক মাধ্যমের ব্যঙ্গচিত্রের আড়ালে ম্যাক্রোঁবিরোধী ক্ষোভ লুকিয়ে আছে। ম্যাক্রোঁকে তারা ধনীদের প্রেসিডেন্ট বলে ডাকেন। তাকে উদ্ধত ও সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরের বলে সম্বোধন করেন। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখতে পারেননি বলেও নিন্দুকেরা দাবি করছেন।

কিন্তু লাখো সাধারণ ফরাসি, যারা তাকে একেবারে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাবছেন না, তারা মনে করেন, বেকারত্ব কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। ম্যাক্রোঁর ব্যাপক সংস্কার তৎপরতার কারণেই তারা এমনটি মনে করছেন। করোনা মহামারি তিনি দক্ষ হাতে মোকাবিলা করেছেন। বৈশ্বিক মঞ্চে দেশকে তুলে ধরেন দক্ষতার সঙ্গে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

প্রতিবেদক

সর্বশেষ সংবাদ